ক্রাইম ব্লক

এসপি-র নাকা চেকিং পয়েন্ট পরিদর্শনের পরেই  পুরুলিয়া জুড়ে অভিযানে  ১.৯ টন কয়লা বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ৩

জেলার একাধিক আন্তঃরাজ্য নাকা পয়েন্টে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার হাই-অ্যালার্ট চেকিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা জুড়ে চলল পুলিশের অভিযান। পুলিশ ও আরপিএফ-র যৌথ তৎপরতায় জেলার তিনটি পৃথক জায়গা থেকে ১.৯ টন বেআইনি কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এসপি-র নাকা চেকিং পয়েন্ট পরিদর্শনের পরেই  পুরুলিয়া জুড়ে অভিযানে  ১.৯ টন কয়লা বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ৩

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

ঝাড়খণ্ড সীমান্ত দিয়ে বেআইনি কয়লা পাচার রুখতে নবান্নের নির্দেশের পর আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার জেলার একাধিক আন্তঃরাজ্য নাকা পয়েন্টে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার হাই-অ্যালার্ট চেকিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা জুড়ে চলল পুলিশের  অভিযান। পুলিশ ও আরপিএফ-র যৌথ তৎপরতায় জেলার তিনটি পৃথক জায়গা থেকে ১.৯ টন  বেআইনি কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়লা পাচারে ব্যবহৃত তিনটি গাড়িও আটক করেছে পুলিশ।

কয়লা, বালি এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রীর অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধেও জোরালো নজরদারি শুরু হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা জুড়ে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এই তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় গড় জয়পুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। সেখানে  আরপিএফ-এর সঙ্গে যৌথ অভিযানে আধিকারিকরা দেখতে পান  সিমেন্টের বস্তায় কয়লা নিয়ে একটি ট্রলি ভ্যানে  তোলার চেষ্টা চলছে। পুলিশকে দেখেই বাকিরা পালালেও, হাতেনাতে একজনকে
ধরে ফেলে পুলিশ।সেখান থেকে ট্রলি ভ্যান সহ ৪০টি বস্তায় ভরা  ১,০০০ কেজি কাঁচা ও গুঁড়ো কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে বারাগ্রামের কাছে। ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পেরিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে কয়লা পাচারের চেষ্টা করছিল এক যুবক। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাড়া করলে চালক মোটরসাইকেলটি রাস্তায় ফেলে রেখেই চম্পট দেয়। ঘটনাস্থল থেকে ওই মোটরবাইক এবং  ৬০০ কেজি কয়লা বোঝাই ১২টি বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক চালকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

অন্য দিকে পুরুলিয়া টাউন থানার পুলিশ রাঁচি রোডের কাছে সান্ধ্যকালীন টহলদারির সময় একটি সন্দেহভাজন বৈদ্যুতিক মালবাহী গাড়ি আটক করে। গাড়িটিতে কোনও নম্বর প্লেট বা রেজিস্ট্রেশন ছিল না। তল্লাশি চালিয়ে গাড়িটি থেকে ৩০০ কেজি পোড়া কয়লা বোঝাই ১০টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ চালকের কাছে কয়লা পরিবহনের বৈধ ট্রানজিট পারমিট, চালান, রসিদ বা অন্য কোনও নথিপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এর পরেই পুলিশ গাড়ির চালক এবং ওই চালানের মালিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করে।

মঙ্গলবারই পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ নিজে ঝালদার এসডিপিও গৌরব ঘোষ-সহ অন্য আধিকারিকদের নিয়ে জয়পুর থানার অন্তর্গত কাঁঠালটাড় নাকা পয়েন্ট, পুরুলিয়া মফস্বলের ঘোঙা, পাড়ার দড়দা এবং ঝালদা থানার অন্তর্গত তুলিন আন্তঃরাজ্য নাকা চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছিলেন। এছাড়াও বান্দোয়ান থানার অন্তর্গত কুচিয়া,  
আন্তঃরাজ্য নাকা পয়েন্টেও জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চলছে।
পুলিশ আধিকারিকদের পাশাপাশি বান্দোয়ানের 
কুঁচিয়ায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরাও এই যৌথ তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন। ঝাড়খণ্ডের চন্দনকিয়ারি, বোকারো ও ধানবাদ দিক থেকে আসা গাড়ির উপর সিসিটিভির মাধ্যমে জেলা কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই নজরদারির পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে জিএসটি এবং মোটর ভেহিকলসও অংশ নিয়েছে।
কয়লা এবং অন্য কোনও খনিজ সম্পদের অবৈধ পরিবহন, মজুত বা ব্যবসা রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।