স্বাস্থ্য শহর

ক্যানসার প্রতিরোধের টিকা পাবে কারা?

আপাতত ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এই বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে গার্ডসিল টিকার একক ডোজ দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা HPV। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ক্যানসার প্রতিরোধের টিকা পাবে কারা?

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্য জুড়ে শুরু হল এইচপিভি  টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরুলিয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসের গাইনিকোলজি ওপিডি সংলগ্ন পিপি ইউনিটে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এই বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে গার্ডসিল টিকার একক ডোজ দেওয়া হবে।  
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা HPV। সময়মতো টিকা নিলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, পুরুলিয়া সদরের বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়, বলরামপুরের বিধায়ক জলধর মাহাতো-সহ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। 

সাংসদ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,
"পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর পুরুলিয়া জেলা জুড়ে মোট ২৮টি কেন্দ্রে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য HPV ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।এই কল্যাণকর উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাই।"

তিনি  অভিযোগ করেন যে, বিগত তৃণমূল সরকারের বিরোধিতার কারণে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে এতদিন আটকে ছিল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনে মানুষের ক্যান্সার মুক্তির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সিএমওএইচ ডাঃ অশোক বিশ্বাস  বলেন, "পুরুলিয়া জেলার প্রায় ২০টি ব্লক ও আরও কয়েকটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে এই টিকাকরণ কর্মসূচি চলবে। বর্তমানে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ, রঘুনাথপুর মহকুমা হাসপাতাল, বান্দোয়ান, পুরুলিয়া-২, পুঞ্চা, কাশিপুর, মানবাজার ও বাঘমুন্ডি-সহ কয়েকটি কেন্দ্রে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। আগে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত শতভাগ হামের  টিকা দেওয়া সম্ভব হলেও, এই নতুন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবার ৮ম ও ৯ম শ্রেণীর ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের লক্ষ্য করে স্কুলভিত্তিক ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। এই উদ্যোগে স্কুলের নোডাল টিচার, লেডি কাউন্সেলর এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করবেন। আপাতত সুরক্ষার স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার ও নার্স যুক্ত নির্দিষ্ট সরকারি কেন্দ্রগুলোতেই এই টিকাকরণ শুরু হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি সব জায়গায় রুটিন তৈরি করে ব্লক লেভেলে বিডিও সাহেবদের মাধ্যমে এই কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার ঘটানো হবে"।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জরায়ুমুখ ক্যানসার ভারতে মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রধান ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, HPV টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে ৯৩ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর এবং এর কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।