অন্যান্য

কাটছে নিম্নচাপের প্রভাব, পুরুলিয়ায় প্রায় মিটে গেল বৃষ্টির ঘাটতি

একদিনের এই প্রবল বৃষ্টিতে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও নেমে হয়েছে ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২৩.৯ ডিগ্রি। অর্থাৎ বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রাতেও বড় পতন হয়েছে।
কাটছে নিম্নচাপের প্রভাব, পুরুলিয়ায় প্রায় মিটে গেল বৃষ্টির ঘাটতি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

বর্ষার শেষভাগে পরপর নিম্নচাপের বৃষ্টিতে পুরুলিয়ার বৃষ্টির ঘাটতি দ্রুত কমছে। কৃষি দফতরের হিসেব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরের গড় হিসেবে জেলার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১০০৯.১৮ মিলিমিটার। সেখানে এ বছর এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৯৭৯.৫০ মিলিমিটার। অর্থাৎ ঘাটতি মাত্র ২৯.৬৮ মিলিমিটার বা ২.৯ শতাংশ।

১৮ আগস্টও জেলায় গড়ে ৪৩.৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ঝালদায়—১৬৪.৪ মিলিমিটার। বাঘমুন্ডিতে ১১৪.২, মানবাজারে ৩৫, বলরামপুরে ৫২.২, বরাবাজারে ৩২.২ এবং জয়পুরে ৪৫.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। নিতুড়িয়ায় ৯.২ এবং সাঁতুড়িতে ২০.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

একদিনের এই প্রবল বৃষ্টিতে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও নেমে হয়েছে ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২৩.৯ ডিগ্রি। অর্থাৎ বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রাতেও বড় পতন হয়েছে।

গত কয়েক দিনের হিসেব দেখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ১১.৪ শতাংশ। ১৭ আগস্ট তা নেমে আসে ৬.২ শতাংশে। ১৮ আগস্টের বৃষ্টির পর ১৯ আগস্টের হিসেব অনুযায়ী ঘাটতি মাত্র ২.৯ শতাংশ। অর্থাৎ কয়েক দিনের নিম্নচাপের বৃষ্টিতে পুরুলিয়া প্রায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে আসা নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া-সহ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় মিটে গেলেও কৃষির জন্য হিসেব এখানেই শেষ নয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নিচু জমিতে জল জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনই জলাধার ও মাটির আর্দ্রতা বাড়ায় পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজে সুফলও মিলতে পারে।