অন্যান্য ব্লক

এই প্রথম শিয়ালের কামড়ে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ, পুরুলিয়ায় মৃতের পরিবারে চাকরি

শিয়ালের হামলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়িয়েছে বন দফতর। হাতি, বাঘ বা বাইসনের হামলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ব্যবস্থা থাকলেও শিয়ালের ক্ষেত্রে এমন নজির আগে ছিল না। পুরুলিয়াই সেই নজির গড়লো
এই প্রথম শিয়ালের কামড়ে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ, পুরুলিয়ায় মৃতের পরিবারে চাকরি

 


শুভদীপ মাহাতো, ঝালদা:

শিয়ালের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনায় এই প্রথম ক্ষতিপূরণ ও চাকরি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার ঝালদা বনাঞ্চলে শিয়ালের হামলায় মৃত ইচাগের বাসিন্দা প্রমীলা রজকের স্বামী দিলীপ রজকের হাতে বন দফতরের পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিলেন  পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। প্রয়াত প্রমীলা রজকের ছেলে জিতেন্দ্র রজককে মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে ফরেস্ট ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এ দিনই বন দফতরের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হলো। বন দফতর সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিয়ালের হামলায় প্রমীলার মৃত্যু হয়। গত এক বছরে পুরুলিয়ার ঝালদা, কোটশিলা, বাঘমুন্ডি, রঘুনাথপুর ও কাশিপুর এলাকায় শিয়ালের কামড় ও আঁচড়ে একশোর বেশি মানুষ জখম হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

পুরুলিয়া সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো   বলেন, " শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রমীলা রজক নামে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিরল। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে নিহতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আগে হাতির হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হতো, সরকারি নজরদারি ও সংরক্ষণের ফলে তা বর্তমানে প্রায় ৯০% কমে এসেছে। আগামী দিনে প্রশাসন ও বনবিভাগ একইভাবে সচেষ্ট থাকবে যাতে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে না পড়ে এবং এমন দুর্ঘটনা শূন্যে নেমে আসে"।

শিয়ালের কামড়ে মৃতের ছেলে
জিতেন্দ্র রজক  বলেন, "২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট শিয়ালের কামড়ে জখম মাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পুরুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দেন এবং প্রায় এক মাস পর তিনি মারা যান। "

ডিএফও অঞ্জন গুহ এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টিতে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং এলাকার বিধায়ক রহিদাস মাহাতোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এদিন ইচাগ গ্রামে  রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এবং  জিতেন্দ্র রজককে ফরেস্ট ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিধায়ক রহিদাস মাহাতো, জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতো প্রমুখ।

বন্যপ্রাণ গণনায় জেলায় বেঙ্গল ফক্স ও গোল্ডেন জ্যাকেলের সংখ্যা বৃদ্ধির ছবিও মিলেছে। শিয়ালের হামলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়িয়েছে বন দফতর। হাতি, বাঘ বা বাইসনের হামলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ব্যবস্থা থাকলেও শিয়ালের ক্ষেত্রে এমন নজির আগে ছিল না। পুরুলিয়াই সেই নজির গড়লো।