শহর

ডবল ইঞ্জিনে ডবল হলো ভাণ্ডার, শুভেন্দুর সরকারের প্রশংসায় অন্নপূর্ণারা

'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের পরিবর্তে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো নতুন মেগা প্রকল্প 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। আর এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা প্রথম দিনেই পৌঁছে গেল পুরুলিয়া জেলার ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৬৬ জন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
ডবল ইঞ্জিনে ডবল হলো ভাণ্ডার, শুভেন্দুর সরকারের প্রশংসায় অন্নপূর্ণারা

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:


পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পেও এক যুগান্তকারী বদল। পূর্বতন সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের পরিবর্তে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো নতুন মেগা প্রকল্প 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। আর এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা প্রথম দিনেই পৌঁছে গেল পুরুলিয়া জেলার ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৬৬ জন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। আগের সরকারের দেওয়া ভাতার পরিমাণ একলাফে দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হতেই জেলা জুড়ে মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও খুশির হাওয়া দেখা গেছে।

বুধবার পুরুলিয়া পুরসভায় আয়োজিত একটি বিশেষ প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম ধাপের ১০০ জন মহিলার হাতে আনুষ্ঠানিক শংসাপত্র তুলে দেয় জেলা প্রশাসন। এই রাজ্যের মূল সূচনার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল পুরুলিয়ার ২০টি ব্লক ও তিনটি পুরসভা। পুরুলিয়া পুরসভার মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো, পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) সুদীপ পাল এবং মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষ।

সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো বলেন,
"নির্বাচনের প্রাক্কালে আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় সংকল্প পত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ তা বাস্তবায়িত হলো। আমরা পরিষ্কার জানিয়েছিলাম, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে মা-বোনেদের জন্য ৩,০০০ টাকার 'অন্নপূর্ণা যোজনা' চালু করব। আজ সেই শুভ দিন।"


তিনি আরও‌ বলেন, "আজ শুধু পুরুলিয়াতেই ১ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে। আর পুরো রাজ্য জুড়ে এই সংখ্যাটা প্রায় ২৮ লক্ষের কাছাকাছি। বর্তমানে যাচাইকরণ বা কনফার্মেশনের কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য, রাজ্যের একজন যোগ্য প্রাপকও যেন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।"

জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন,
"জেলা জুড়ে ১ লক্ষ ৭০ হাজার উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩,০০০ টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুবিধা যাতে সবার কাছে পৌঁছায়, তার জন্য ব্লক অফিস ও বিশেষ ক্যাম্পের পাশাপাশি এবার সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণের কাজও শুরু করা হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "রাজ্য জুড়ে পূর্বতন সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে একাধিক ভুয়ো উপভোক্তার হদিশ মেলার যে অভিযোগ উঠছিল,  সরকারের কড়া নির্দেশিকা মেনে আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যেকোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

উপভোক্তা নমিতা মাহাতো তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতাম, আর এই মাস থেকে ৩,০০০ টাকা করে পাব। খুব ভালো লাগছে। মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ যে উনি আমাদের এই সুবিধাটা করে দিলেন। এই টাকা সংসারের যাবতীয় কাজে লাগাব, আর আপদ-বিপদে বা অসুখ-বিসুখ হলে এই টাকা আমাদের অনেক ভরসা দেবে।"