নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
উৎসবের মরশুম হোক বা মহামারীর দিন শহরকে পরিষ্কার রাখতে যারা দিনরাত এক করে দেন, আজ তারাই পেটের তাগিদে কর্মবিরতির পথে। বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া এবং সম্মানজনক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করলেন পুরুলিয়া পুরসভার সাফাই বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। আর এর জেরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পুরুলিয়া শহর যেন এক লহমায় পরিণত হয়েছে আবর্জনার স্তুপে। যত্রতত্র জমে থাকা নোংরার পাহাড় জানিয়ে দিচ্ছে, শহরের এই লাইফলাইন স্তব্ধ হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হতে পারে।
বারবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও মেলেনি কোনো রফাসূত্র। ফলে বাধ্য হয়েই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন কর্মীরা। বর্তমানে পুরুলিয়া পুরসভা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসক। তাই এবার আর কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।
পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রায় ৭০০-র বেশি অস্থায়ী সাফাই কর্মী এখানে কাজ করেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তাদের শ্রমের কোনো সঠিক মূল্যায়ন হয়নি।
অস্থায়ী কর্মী স্মরজিৎ স্যামুয়েল বলেন,
"আমরা কেউ ১৫ বছর, কেউ আবার ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পুরসভাকে নিজেদের রক্ত-জল করা শ্রম দিয়ে আসছি। অথচ মাস শেষে আমাদের যেটুকু বেতন দেওয়া হয়, তা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে নগণ্য। তার ওপর নিয়মিত বেতনও জোটে না। কোনো মাসে টাকা মিললে, পরের মাসে আবার অপেক্ষা করতে হয়। সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই আমাদের এই ধর্মঘটের পথ বেছে নিতে হলো।"
অস্থায়ী কর্মী পিন্টু বাউরি জানান,
"বারবার আমরা পুরসভা কর্তৃপক্ষকে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার আর কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে আমরা ভুলছি না। যতক্ষণ না আমাদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবেই।"
সাফাই কর্মীদের এই আন্দোলনের জেরে স্বাভাবিকভাবেই স্তব্ধ পুরুলিয়া শহরের জনজীবন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমছে বর্জ্য, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। শহরবাসীর প্রশ্ন, এই অচলাবস্থা কাটবে কবে? একদিকে যেমন সাফাই কর্মীদের এই দীর্ঘ বঞ্চনার লড়াই ন্যায্য বলে মনে করছেন একাংশ, তেমনই শহরের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আমজনতার।