ক্রাইম ব্লক

ঘুমের ওষুধেই চিরঘুম! তৃণমূল সরকারের বেনিয়ম কেড়ে নিলো ৩৪ বছরের তরতাজা শিক্ষিকার প্রাণ

২০১৯ সালে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন ইপ্সিতা। কিন্তু পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের নিয়োগ ঘিরে বেনিয়ম আর যোগ্য অযোগ্য বাছাইয়ের আইনি জাঁতাকলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁর চাকরিও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ঘুমের ওষুধেই চিরঘুম! তৃণমূল সরকারের বেনিয়ম কেড়ে নিলো ৩৪ বছরের তরতাজা শিক্ষিকার প্রাণ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

চাকরির মেয়াদ শেষ হতে বাকি ছিল আর মাত্র একটা মাস। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত মানসিক চাপ আর অনিশ্চয়তা কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের তালিকায় নাম থাকা পুরুলিয়ার ৩৪ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষিকা ইপ্সিতা দাস মহাপাত্রের অকাল মৃত্যুতে ফের একবার সামনে এল চাকরিহারাদের মানসিক অবসাদের চরম বাস্তব।

তিনি পুরুলিয়া-২ ব্লকের গোলামারা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০১৯ সালে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন ইপ্সিতা। কিন্তু পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের নিয়োগ ঘিরে বেনিয়ম আর যোগ্য অযোগ্য বাছাইয়ের আইনি জাঁতাকলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁর চাকরিও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের পুনরায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরেই গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।

মৃতার বাবা  অজিত দাস মহাপাত্র জানান, "মেয়ের চাকরিটা চলে যাওয়ার পর থেকেই ও মানসিকভাবে পুরো ভেঙে পড়েছিল। সারাক্ষণ একটা অবসাদ কাজ করত ওর মধ্যে। চোখের সামনে একটা তরতাজা মেয়ে এভাবে শেষ হয়ে গেল, আমরা ভাবতেও পারছি না।"

মৃতার মা অসীমা দাস মহাপাত্র বলেন,
"২০১৯ সালে কত আনন্দ করে ও চাকরিটায় যোগ দিয়েছিল। কিন্তু এই নিয়োগ দুর্নীতির জাঁতাকলে পড়ে ওর জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। সরকারের ভুলের শাস্তি কেন আমার মেয়েকে পেতে হলো?"

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে 'যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ'। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিবৃতিতে ইপ্সিতার মৃত্যুকে ২৬ হাজার চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকার আন্দোলনের আরও একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের ফলেই চিরঘুমের দেশে চলে গিয়েছেন ইপ্সিতা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের এসএলএসটি-র যোগ্য ও নির্দোষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্রুত পুনর্বহালের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাক নতুন সরকার। তারা যেন নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য অবিলম্বে মানবিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জোরালো দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।