নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
বর্ষার শেষভাগে ফের সক্রিয় নিম্নচাপ। সোমবার সকাল থেকেই মেঘলা আকাশের সঙ্গে কখনও ঝিরিঝিরি, কখনও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছে পুরুলিয়া। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে পুরুলিয়াতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কৃষি দফতরের হিসেব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পুরুলিয়ায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৯৫৩.০৮ মিলিমিটার। সেখানে বাস্তবে বৃষ্টি হয়েছে ৮৪৪.৫১ মিলিমিটার। ঘাটতি ১০৮.৫৭ মিলিমিটার বা ১১.৪ শতাংশ। ১৬ আগস্টও জেলায় গড় বৃষ্টি হয়েছে ৬.৩৪ মিলিমিটার। জয়পুরে সর্বোচ্চ ২৮.৫, বাঘমুন্ডিতে ২৩.৪ এবং ঝালদায় ২০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, নিম্নচাপের এই বৃষ্টি কি ঘাটতি মেটাতে পারবে? একদিনে সেই ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়। তবে আগামী দু’দিন ধরে ভালো পরিমাণে বৃষ্টি হলে বার্ষিক ঘাটতি অনেকটাই কমে আসতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়ার মতো জেলায় বর্ষার শেষভাগের বৃষ্টি জলাধার ও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষির দিক থেকেও এই বৃষ্টি একেবারে ফেলনা নয়। পুরুলিয়ার প্রধান খরিফ ফসল ধান। বর্ষার বৃষ্টি কম হওয়ায় যে সব এলাকায় জমিতে পর্যাপ্ত জল বা মাটির আর্দ্রতার অভাব তৈরি হয়েছিল, সেখানে এই বৃষ্টি ধানের চাষ ও গাছের বৃদ্ধিতে উপকার করতে পারে। একই সঙ্গে পুকুর, জলাধার ও অন্যান্য জলাশয়ে জল বাড়লে পরবর্তী সময়ে সেচের সুবিধাও মিলবে।
তবে বর্ষার শেষ দিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিরও উল্টো প্রভাব রয়েছে। ধান বা অন্যান্য খরিফ ফসল যদি পরিণত হওয়ার পর্যায়ে থাকে, টানা ভারী বৃষ্টিতে জমিতে জল দাঁড়িয়ে যাওয়া, গাছ হেলে পড়া কিংবা রোগ-পোকার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে শুধু মোট বৃষ্টির পরিমাণ নয়, কখন এবং কীভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, সেটিও কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ দিন পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ২৮.৮ ডিগ্রি। নিম্নচাপের প্রভাবে তাপমাত্রা কমলেও টানা মেঘ-বৃষ্টিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়েছে।
বিলম্বিত হলেও এই নিম্নচাপের বৃষ্টি পুরুলিয়ার জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির। তবে এই বৃষ্টি এক লপ্তে ঘাটতি মুছে দেবে না। বর্ষার বাকি সময়ের বৃষ্টির পরিমাণ এবং তার বিস্তারই ঠিক করবে, শেষ পর্যন্ত জেলার কৃষি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।