নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
বর্ষার মরসুমে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও আপাতত খরা ঘোষণার পরিস্থিতি থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে পুরুলিয়া। ১১ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির ঘাটতি ১১.৩ শতাংশ। কৃষি দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরের গড় হিসেবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৯১৯.৪২ মিলিমিটার। সেখানে এ বছর বৃষ্টি হয়েছে ৮১৫.৮৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ ঘাটতি ১০৩.৫৬ মিলিমিটার।
তবে ১১ আগস্টও জেলায় গড়ে ৮.৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে মানবাজারে, ২৮.৩ মিলিমিটার। বাঘমুন্ডিতে ২৭, পুঞ্চায় ১৭.২, পাড়ায় ১০.৪, কাশিপুরে ১০.২ এবং বলরামপুরে ১০.১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। বরাবাজার, নিতুড়িয়া, সাঁতুড়ি ও হুড়ায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি।
এ দিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩.৪ ডিগ্রি।
তবে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেই খরা ঘোষণা করা হয় না। খরা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা, ফসলের পরিস্থিতি, চাষের এলাকা, জলাধারে জলের পরিমাণ এবং সেচের অবস্থাও বিবেচনা করা হয়। ফলে ১১.৩ শতাংশ ঘাটতি থাকলেও এখনই খরা ঘোষণার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বর্ষার এখনও কিছুটা সময় বাকি। কিন্তু ধান রোপণও বাকি ২৭ শতাংশ। আগামী কয়েক সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ কেমন থাকে, তার উপরেই নির্ভর করবে ঘাটতি। আরও কমবে, নাকি পরিস্থিতি খরার দিকে এগোবে? আপাতত তাই পুরুলিয়ার নজর বর্ষার বাকি সময়ের বৃষ্টির দিকেই।