স্বাস্থ্য ব্লক

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ দশা কাটিয়ে ইলু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিরছে ইন্ডোর পরিষেবা, আশ্বাস সাংসদ ও বিধায়কের

প্রায় ষাট থেকে সত্তর হাজার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি। একসময় এখানে ১০ শয্যার ইন্ডোর পরিষেবা থাকলেও আজ তা অতীত। এ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার সাংসদ বলেন, "আমি যবে থেকে বড় হয়েছি আমি কোনোদিন ইন্ডোর এখানে দেখিনি, শুনেছি শুধু"।
দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ দশা কাটিয়ে ইলু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিরছে ইন্ডোর পরিষেবা, আশ্বাস সাংসদ ও বিধায়কের

 

শুভদীপ মাহাত, ঝালদা:

ঝালদার ইলু প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র একসময় এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা কার্যত জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এবার সেই জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং পুনরায় ইন্ডোর পরিষেবা চালু করতে একযোগে ময়দানে নামলেন পুরুলিয়ার সাংসদ এবং বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাত। স্বচ্ছ ভারত মিশন উপলক্ষে জেসিবি মেশিন দিয়ে হাসপাতাল চত্বর জঙ্গলমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সাংসদ ও বিধায়কের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো, অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরাও।

প্রায় ষাট থেকে সত্তর হাজার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি। একসময় এখানে ১০ শয্যার ইন্ডোর পরিষেবা থাকলেও আজ তা অতীত। এ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার সাংসদ বলেন, "আমি যবে থেকে বড় হয়েছি আমি কোনোদিন ইন্ডোর এখানে দেখিনি, শুনেছি শুধু"। বর্তমানে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তদ্বির করা হচ্ছে।

সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর নিজের আস্থার কথা জানাতে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে প্রচ্ছন্ন কটাক্ষ করে পুরুলিয়ার সাংসদ বলেন, "তথাকথিত স্বঘোষিত যুবরাজ, তিনি এখানে ভিডিও পোস্ট করে দেখাতেন, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ, যে দেখুন সরকারি হাসপাতালে এমপি-র মা ট্রিটমেন্ট করাচ্ছে। আমি তাকে বলবো আমাদের তো আপনার মতো আমেরিকা কিংবা দুবাই যাওয়ার তো অবস্থা নেই স্বাভাবিকভাবে। এই সরকারের উপরে, বর্তমান সরকারের উপরে আমাদের ভরসা আছে। এবং আমরা, আমি বরাবরই সরকারি হাসপাতালেই দেখাই। দিল্লিতে গেলে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই, পুরুলিয়াতে গেলেও সদর হাসপাতালে সরকারি ডাক্তার দেখাই। এখানেও আমি কিংবা আমার পরিবার কারণ আমরা যদি না ট্রিটমেন্ট না করাই, তাহলে বাকি মানুষ কেন করবে?"

জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে ১০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ৩০ শয্যার ইন্ডোর করার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাত। অতীতের স্মৃতিচারণা করে বিধায়ক বলেন, "পুরো ঝালদা, দক্ষিণ ঝালদার সাথে সাথে উত্তর ঝালদা এবং বাঘমুন্ডির থেকেও, ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড থেকেও পেশেন্টরা এখানে চিকিৎসার জন্য আসতো। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের জমানা, তৃণমূলের ১৫ বছরের জমানা, সবাই দেখতেই পাচ্ছেন একদম জঙ্গল হয়ে গেছে। আমরা পুনরায় উদ্যোগ নিয়েছি, আমাদের সাংসদ মহাশয়ের বিশেষ স্বপ্ন আছে, যে এই হসপিটালের পুরানো রূপ আমরা ফিরিয়ে আনবো"।

বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত এখানে আবার ডাক্তার-নার্সদের আবাসন এবং ইন্ডোর পরিষেবা চালু হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁদের এই লড়াই ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।