শিক্ষা সংস্কৃতি শহর

দেশাত্মবোধ আর ধর্মীয় ভাবাবেগ, বিদ্যালয় আর মাদ্রাসায় 'বন্দেমাতরম' ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাজ্য সরকার দিয়েছে নির্দেশ। আর সেই নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে গরমের ছুটির পর স্কুল খুললো বন্দেমাতরমে মুখরিত হয়ে। সোমবার থেকে জেলার মাদ্রাসা সহ স্কুলগুলিতে প্রার্থনা সভায় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি গাওয়া হচ্ছে জাতীয় গান বন্দেমাতরম্‌ । আর সেই গান ঘিরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
দেশাত্মবোধ আর ধর্মীয় ভাবাবেগ, বিদ্যালয় আর মাদ্রাসায় 'বন্দেমাতরম' ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:


রাজ্য সরকার দিয়েছে নির্দেশ। আর সেই নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে গরমের ছুটির পর স্কুল খুললো বন্দেমাতরমে মুখরিত হয়ে। সোমবার থেকে জেলার স্কুলগুলিতে প্রার্থনা সভায় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি গাওয়া হচ্ছে জাতীয় গান বন্দেমাতরম্‌ । পুরুলিয়া শহরের ঋষি অরবিন্দ শিশু বিদ্যানিকেতন সরকারি স্কুলে এদিন সকালে দেখা গেলো এক অন্যরকম দৃশ্য। সাউন্ড সিস্টেমে সুর বেঁধে শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে গলা মেলান 'বন্দে মাতরম্‌' ও জাতীয় সংগীতে। গোটা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে তৈরি হয় এক গভীর দেশাত্মবোধক পরিবেশ।


ঋষি অরবিন্দ শিশু বিদ্যানিকেতন শিক্ষক  জয়দীপ্ত চট্টরাজ‌ বলেন, "সরকারি নির্দেশিকাকে স্বাগত জানিয়ে আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে এই প্রার্থনা কর্মসূচির সূচনা করলাম। ছাত্রছাত্রীদের মনে ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তুলতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রতিদিন সকালটা যদি এভাবে দেশের বন্দনা দিয়ে শুরু হয়, তবে তা পড়ুয়াদের মধ্যে একতার বার্তা দেয়"।


অন্য চিত্র ধরা পড়েছে পুরুলিয়া মাদ্রাসা ইসলামিয়া হাই মাদ্রাসায়। সেখানেও সরকারি নিয়ম মেনে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে বন্দেমাতরম এবং জনগণমন প্রার্থনা করানো হয়। তবে এই প্রার্থনা চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের একাংশের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাবোধ লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, বহুদিনের চেনা রুটিনের বাইরে গিয়ে এই নতুন প্রার্থনা পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।


পুরুলিয়া মাদ্রাসা ইসলামিয়া হাই মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক মোহম্মদ ইকরামউদ্দিন  বলেন, "আমরা সরকারি নির্দেশিকা মেনে আজ বিদ্যালয়ে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে প্রার্থনার আয়োজন করেছিলাম। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা এই নতুন নিয়মটির সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে গিয়ে কিছুটা অসুবিধার মুখে পড়ছে। আমাদের সংবিধানে যে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া রয়েছে, এই বাধ্যতামূলক নিয়মটির কারণে কোথাও যেন সেই স্বাধীন ভাবাবেগে আঘাত লাগছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষা প্রাঙ্গণে সব নিয়ম যেন ছাত্রছাত্রীদের স্বাভাবিক বিকাশের অনুকূল হয়।"

ছাত্রী রাজিয়া পারভিন ‌জানায়, "আজ স্কুলে হঠাৎ করে নতুন প্রার্থনা শুরু হওয়ায় আমাদের একটু অন্যরকম লেগেছে। প্রতিদিন যে প্রার্থনায় আমরা অভ্যস্ত, তার চেয়ে এটি আলাদা হওয়ায় প্রথম দিন গাইতে গিয়ে একটু অসুবিধে বা জড়তা তৈরি হয়েছিল।"


অভিভাবক আহমদ রাজা বলেন, "আমরা সবসময়ই দেশের আইন ও নিয়মকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু মাদ্রাসার আবহ এবং আমাদের ধর্মীয় কিছু নিজস্ব ভাবাবেগ রয়েছে। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক করার ফলে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে কিছুটা আঘাত লাগছে। আমরা চাই প্রশাসন যাতে সব পক্ষের ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।"