নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পিছিয়ে নেই পুরুলিয়া। হাসপাতাল ঘিরে রোগীর আত্মীয়দের যতই অভিযোগ থাক, এবার পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবার অর্জন করল জাতীয় স্তরের শংসাপত্র। এই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ অর্জন করে নিয়েছে 'লক্ষ্য' নামের এই গুণমান। ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেমস রিসোর্স সেন্টার করেছিল মূল্যায়ন।গত ১৮ এপ্রিল জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে মূল্যায়ন করে তারই ভিত্তিতে মেটারনিটি ওটি ৮৪.৫০ শতাংশ এবং লেবার রুম ৮৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করে।
দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের
সুকমল বিষয়ী বলেন, “এটি কোনও একক ব্যক্তির সাফল্য নয়, গোটা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অর্জন। 'লক্ষ্য' সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আগামী দিনে পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে আমরা নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাব।”
দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ সব্যসাচী দাস বলেন, “জাতীয় স্তরের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে পুরুলিয়ার মতো জেলার সরকারি হাসপাতালও উৎকর্ষের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। রোগীদের আরও উন্নত ও নিরাপদ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জয়েন্ট নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট লক্ষ্মী পরামাণিক বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের নার্সিং টিমের জন্য অত্যন্ত গর্বের। প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিদিন যে পরিশ্রম করি, তারই স্বীকৃতি এটি। ভবিষ্যতেও পরিষেবার মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
গাইনোকোলজিস্ট ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ অনিতা দাস বলেন, "চিকিৎসক থেকে স্টাফ—সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল এই অর্জন। রোগীকেন্দ্রিক পরিষেবার উপর বিশেষ জোর দেওয়াতেই আমরা এই সাফল্য পেয়েছি।”
পাবলিক হেলথ ডিস্ট্রিক্ট কনসালটেন্ট ডাঃ অরিজিৎ গোস্বামী বলেন, “জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স টিম শুরু থেকেই হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকেও মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে।”
এই স্বীকৃতি অর্জনের পর হাসপাতাল চত্বরে যেন উৎসবের আবহ। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আধিকারিকদের উপস্থিতিতে কেক কেটে উদযাপন করা হয় এই বিশেষ মুহূর্ত। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, এই অর্জন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরুলিয়া জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার সামগ্রিক অগ্রগতির প্রতীক।
স্বাস্থ্য মহলের মতে, এই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে জেলার প্রসূতি মায়েরা আরও উন্নত, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করবেন। একই সঙ্গে এটি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাফল্যেরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।