ব্লক

শ্যামনগর ওভারব্রিজে অটোকে ধাক্কা ট্রেলারের, ফের রক্তাক্ত ১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক

সোমবার সকালে বলরামপুর থানার শ্যামনগর ওভারব্রিজের কাছে একটি অটোকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রেলার। প্রাথমিক ভাবে হতাহতের আশঙ্কা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বা আহতদের বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
শ্যামনগর ওভারব্রিজে অটোকে ধাক্কা ট্রেলারের, ফের রক্তাক্ত ১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি , বলরামপুর:

ফের পথ দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত হল পুরুলিয়া–জামশেদপুর ১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক। সোমবার সকালে বলরামপুর থানার শ্যামনগর ওভারব্রিজের কাছে একটি অটোকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রেলার। প্রাথমিক ভাবে হতাহতের আশঙ্কা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বা আহতদের বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলরামপুর থানার পুলিশ। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এই দুর্ঘটনার জেরে ফের সামনে এল বলরামপুর এলাকার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও বলরামপুর থানা এলাকার বিভিন্ন সড়কে পথ দুর্ঘটনা পুরোপুরি রোখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পুরুলিয়া–জামশেদপুর ১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং বলরামপুর–বরাবাজার ও বলরামপুর–বাঘমুণ্ডি রাজ্য সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যদিও পুলিশের দাবি, আগের তুলনায় দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে।

ট্রাফিক আইন ভাঙার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ট্রিপল রাইডিং এবং হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর বিরুদ্ধে চলতি বছরের মে মাসে ১,১৩১টি, জুন মাসে ৫৬৪টি এবং জুলাই মাসে এখনও পর্যন্ত ১৯৬টি মামলা রুজু করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের নথি বলছে, মার্চ ও এপ্রিলে প্রাণঘাতী মোটরবাইক দুর্ঘটনার কোনও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু মে মাসে তিনটি, জুনে দু'টি এবং জুলাই মাসে এখনও পর্যন্ত দু'টি প্রাণঘাতী বাইক দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি রথযাত্রার দিনই বলরামপুর থানা এলাকায় সাত-আটটি পৃথক বাইক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। মৃত্যু হয় এক জনের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের পরে রাস্তা অনেক বেশি মসৃণ হওয়ায় বহু চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি, কয়েকটি অংশে পর্যাপ্ত আলোর অভাবও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তবে পুলিশের বক্তব্য, অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ ট্রাফিক আইন অমান্য এবং বেপরোয়া গতি।  পুলিশের আশা, চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চললে এবং নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করলে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও কমানো সম্ভব।