নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
প্রশাসকই কি বসছে ঝালদা পুরসভায়?
রাজনৈতিক নাটকের নতুন অধ্যায়ে তেমনই ইঙ্গিত পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভা ঘিরে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পুরপ্রধান নির্বাচনের জন্য ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেন না কোনো কাউন্সিলরই। ফলে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ভেস্তেই গেল পুরপ্রধান নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ সভা।
পুরসভা সূত্রের খবর, গত ২৫ জুলাই সুরেশ আগরওয়াল পুরপ্রধান ও কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেন। ৬ আগস্ট বোর্ডের বৈঠকে তা গৃহীত হয়। নিয়ম মাফিক শূন্য পদে নতুন পুরপ্রধান নির্বাচনে ২১ আগস্টের বৈঠক আহ্বান করেছিলেন উপ পুরপ্রধান সুদীপ কর্মকার। মোট ১২টি ওয়ার্ডের এই পুরসভায় এক কাউন্সিলরের প্রয়াণ ও দুজনের ইস্তফার পর বর্তমানে নথিবদ্ধ সদস্য সংখ্যা ৯। তাতে ৮ জন তৃণমূলের এবং ১ জন কংগ্রেসের। তবে রহস্যজনকভাবে এই ৯ জনের একজন সদস্যও এদিন সভাঘরে পা রাখেননি।
কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল বলেন,
"সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠকের সময় স্থির ছিল। আমি নির্ধারিত সময়ে পুরসভা চত্বরে উপস্থিতও ছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের কোনো কাউন্সিলর সভাঘরে না আসায় আমিও ভেতরে যাইনি। আইনি নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম তিনজন সদস্য হাজির থাকলেই এই ভোটাভুটির প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব ছিল।"
টানাপোড়েনকেই দায়ী করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বিপ্লব কয়াল আরও যোগ করেন, আইন অনুযায়ী আগামী সাত দিনের মধ্যে তিন বা তার বেশি সংখ্যক কাউন্সিলর উদ্যোগী হয়ে নতুন সভার আহ্বান জানালে তবেই নির্বাচন সম্ভব। নচেৎ পুরসভায় সরকারি প্রশাসক বসানো ছাড়া উপায় থাকবে না। আর প্রশাসক রাজ জারি হলে সার্বিকভাবে ঝালদাবাসীকে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সভা ভেস্তে যাওয়ার কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে উপ পুরপ্রধান সুদীপ কর্মকারের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি যোগাযোগ এড়িয়ে গেছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থাকা সত্ত্বেও আপাতত প্রশাসক ব্যবস্থার দিকেই হেঁটে চলেছে ঝালদা পুরসভা।