নিজস্ব সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর:
কথা ছিল, হবে গ্রানাইট হাব। সেই স্বপ্ন দেখিয়ে গজিয়ে উঠেছে একের পর এক পাথর ক্রাশার। আর তার জেরে রঘুনাথপুরের বেড়ো চণ্ডী পাহাড় এখন ক্ষতবিক্ষত। অভিযোগ, ওই এলাকায় পাথর ক্রাশারের কোনও অনুমতিই নেই। বেড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতও কোনও অনুমতি দেয়নি। তা হলে পাহাড় ঘেঁষে কী ভাবে একের পর এক ক্রাশার গড়ে উঠল, সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও জবাব না মেলায় এ বার পাহাড় বাঁচানোর আন্দোলন আরও তীব্র হল।
রবিবার চণ্ডী পাহাড় সংলগ্ন পুরাতন বেড়ো থেকে বিশাল মিছিল বের করেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শুধু পাহাড় কাটাই নয়, সেই পাথর পরিবহনের জেরে গ্রামের রাস্তাগুলিও কার্যত বেহাল হয়ে পড়েছে। মিঠুন বাউরি, বিক্রম বাউরি, বিবেক তন্তুবায়, পাপন মণ্ডলদের মতো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিছিলে পা মেলান আট থেকে আশি। ছিলেন এলাকার বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকেরাও। সকলের দাবি এক—অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। ছিলেন প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও মঞ্চ, দক্ষিণবঙ্গ আহ্বায়ক রাজেন টুডু, ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির রাজ্য কমিটির সহ-সম্পাদক স্বদেশপ্রিয় মাহাত, রঘুনাথপুর দূষণ বিরোধী ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা মঞ্চর অন্যতম আহ্বায়ক
শ্রীলোক মাজি, পারবেলিয়া খোলামুখ কয়লাখনি আন্দোলনের জমি রক্ষা কমিটি, সেক্রেটারি বিপ্লব মারাণ্ডি, পরিবেশ এবং প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা কর্মী সৌরভ চক্রবর্তী, আদিবাসী বাউরি সমাজ থেকে মাইকেল বাউরি, সাহিত্যিক ও প্রকৃতিবিদ সত্যবান তন্তুবায় প্রমুখ।
২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তৃণমূলের আমলে রঘুনাথপুর ১ নং ব্লকের বেড়ো ও খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রানাইট হাবের অনুমোদন দেয় রাজ্য সরকার। তারপর থেকেই ওই প্রকল্প ঘিরে আপত্তি ও আন্দোলন চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রানাইট হাবের কথা বলা হলেও বাস্তবে পাহাড় কেটে পাথর তোলার কাজই চলেছে। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে একের পর এক ক্রাশার। অথচ ক্রাশারগুলির অনুমোদন নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
গত মাসের ২০ তারিখ পুরুলিয়ায় আদিবাসী কুড়মি সমাজের একটি অনুষ্ঠানে এবং প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কোথাও কোনও পাহাড় কাটা হবে না। তবে সেই ঘোষণার পরেও সরকারি ভাবে কোনও আদেশনামা আসেনি বলে স্থানীয়দের দাবি। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোও জানিয়েছেন, সমস্ত পাহাড় কাটা বন্ধ থাকবে। কিন্তু বেড়োর চণ্ডী পাহাড়ে এখনও পাথর কাটার কাজ চলায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও যদি চণ্ডী পাহাড় কাটা চলতে থাকে, তা হলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? আর যে ক্রাশারগুলির অনুমোদন নেই বলে তাঁদের দাবি, সেগুলি কী ভাবে দিনের পর দিন চালু রয়েছে? প্রশাসনের তরফে এই প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট জবাব না মেলায় আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
নতুন সরকারের কাছে তাই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, এ বার আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ হবে পাহাড় কাটা। সেই আশাতেই চণ্ডী পাহাড় বাঁচানোর আন্দোলনকে আরও জোরদার করার পথে হাঁটছেন তাঁরা।