উৎসবের আলোয় স্বাস্থ্য শহর

ঘরের ছেলের প্রত্যাবর্তন ও পুজোয় নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা, পুরুলিয়ার স্বাস্থ্যচিত্রে নতুন দিশা রোটারি হাসপাতালের

পুরুলিয়াবাসীর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রোটারি হাসপাতাল। এই প্রথমবার দুর্গাপুজোয় ২৪ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে এখানে।
ঘরের ছেলের প্রত্যাবর্তন ও পুজোয় নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা, পুরুলিয়ার স্বাস্থ্যচিত্রে নতুন দিশা রোটারি হাসপাতালের

 

 

শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:

উৎসবের দিনগুলোতে চারদিক যখন ছুটির মেজাজে, তখন পুরুলিয়াবাসীর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রোটারি হাসপাতাল। এই প্রথমবার দুর্গাপুজোয় ২৪ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে এখানে। রোগীদের আরও উন্নত পরিষেবা দিতে ১লা অক্টোবর থেকে হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কলকাতার বিশিষ্ট জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ আনোয়ার জামাল।
পুজোর সময় সাধারণত জরুরি চিকিৎসা পেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে পথ দুর্ঘটনা বা ট্রমা কেয়ারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। তবে এবার সেই ছবি বদলাচ্ছে। রোটারি হাসপাতালে আইসিইউ, ডায়ালিসিস, ইমার্জেন্সি থেকে শুরু করে সার্জারি ও অর্থোপেডিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো পুজোতেও এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ থাকছে না। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই এখানে ক্যাথল্যাব ও ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পুজোয় পরিষেবা নিয়ে রোটারি হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর রাজকুমার শীল বলেন, "রোটারি হাসপাতাল দুর্গাপুজোর দিনগুলোতেও ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে এবং এতে ট্রমা কেয়ারসহ সমস্ত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা চালু থাকবে। সুলভ মূল্যে উন্নত স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি ক্যাথল্যাব ও ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি ১লা অক্টোবর থেকে কলকাতার স্বনামধন্য চিকিৎসক ডাঃ আনোয়ার হোসেনকে যুক্ত করেছে। এছাড়া এখানে আইসিইউ, ডায়ালিসিস, অর্থোপেডিক, গাইনিকোলজি ও জেনারেল সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর সুবিধাও নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। এখন থেকে আমরা 'আয়ুষ্মান ভারত' ও 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা'-র অধীনে চিকিৎসা সেবা প্রদান শুরু করতে পারব। এর ফলে রোগীদের অন্য হাসপাতালে রেফার বা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে। সর্বোপরি, সাধারণ মানুষ আরও সহজে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন"।

উন্নত চিকিৎসার খোঁজে পুরুলিয়ার বহু মানুষকে ভিন জেলায় ছুটতে হয়। জেলার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, সাধারণ মানুষের অসহায়তা কাটাতেই কলকাতা ছেড়ে নিজের শহরে ফিরে এসেছেন পুরুলিয়ার ঘরের ছেলে ডাঃ আনোয়ার জামাল।

এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক ডাঃ আনোয়ার জামাল বলেন, "পুরুলিয়ার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষকে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। কলকাতার চ্যারিটেবল হাসপাতালে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং মা-বাবার ইচ্ছায় নিজের জন্মভূমিতে ফিরে নিয়মিত রোগী দেখা শুরু করি। স্থানীয় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের  সহায়তায় এখন এখানেই স্থায়ীভাবে পরিষেবা প্রদান ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জোরদার করার পরিকল্পনা করছি। রোগীদের সর্বোচ্চ সাশ্রয়ে শতভাগ সন্তোষজনক চিকিৎসা দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য"।

১৯৬৮ সালে রোটারি ক্লাব অফ পুরুলিয়ার জন্ম। ১৯৮২ সালে চক্ষু হাসপাতালের হাত ধরে যে স্বাস্থ্য পরিষেবার যে যাত্রার শুরু, ২০১৭ থেকে তা আজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পথ বেয়ে এগিয়ে চলেছে।জেলার আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের কাছে কম খরচে সেরা চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ পুরুলিয়ার স্বাস্থ্যচিত্রে নিঃসন্দেহে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।