ক্রাইম শহর

৮ লাখ টাকার গাঁজা সহ পুরুলিয়া স্টেশনে ধৃত ভিন রাজ্যের যুবক

পুরুলিয়া রেলওয়ে স্টেশনে এক চাঞ্চল্যকর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক পাচারকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করল আরপিএফ পোস্ট পুরুলিয়া ও আদ্রা ডিভিশনের রেল সুরক্ষা বাহিনী ।‌ উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য ৮ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা।
৮ লাখ টাকার গাঁজা সহ পুরুলিয়া স্টেশনে ধৃত ভিন রাজ্যের যুবক

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

গোপন সূত্রের খবর পেয়ে ওত পেতে ছিল রেল সুরক্ষা বাহিনী । ট্রেন প্ল্যাটফর্মে থামতেই ঘিরে ফেলা হলো সাধারণ কামরা। আর তাতেই সাফল্য! পুরুলিয়া রেলওয়ে স্টেশনে এক চাঞ্চল্যকর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক  পাচারকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করল আরপিএফ পোস্ট পুরুলিয়া ও আদ্রা ডিভিশনের রেল সুরক্ষা বাহিনী ।‌ উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য ৮ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির নাম রামজি পাল (৩১)। সে মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলার সাতাই থানার অন্তর্গত আগ্রা গ্রামের বাসিন্দা। আইসিজেএস পোর্টালে তার তথ্য মেলাতেই চাঞ্চল্যকর সত্য সামনে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, রামজি একজন অভ্যাসগত মাদক পাচারকারী। এর আগেও গত বছর মধ্যপ্রদেশের ওর্ছা রোড থানায় এনডিপিএস  আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল।

সোমবার  আরপিএফ পোস্ট পুরুলিয়ার আইপিএফ এস.কে. তিওয়ারির কাছে একটি গোপন খবর আসে। আদ্রার স্পেশাল টাস্ক টিমের পক্ষে জানানো হয়, টাটা-বক্সারূ এক্সপ্রেসের সামনের সাধারণ কামরায় এক ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে বিপুল পরিমাণ মাদক বহন করছে। খবর পেতেই আরপিএফ টিম সটান হাজির হয় পুরুলিয়া স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে।

ট্রেন আসতেই ভেতরে উঠে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা। লাগেজ র‍্যাকে রাখা একটি কালো রঙের ট্রলি ব্যাগ নিয়ে এক যুবকের ওপর সন্দেহ হয় টিমের। চাপ সৃষ্টি করতেই যুবক স্বীকার করে ব্যাগটিতে গাঁজা রয়েছে। বিলম্ব না করে তাকে ব্যাগসহ প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে আনা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় সহকারী নিরাপত্তা কমিশনার  দিনেশ কুমার কাইনকে। তাঁর উপস্থিতিতে এবং এনডিপিএস আইনের ৫০ ও ৬৭ নম্বর ধারার সমস্ত নিয়ম মেনে ট্রলি ব্যাগটির জিপ খোলা হয়। ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় বাদামী প্লাস্টিক টেপে মোড়ানো ১৬টি প্যাকেট।

পোস্টাল অফিস  থেকে আনা ইলেকট্রনিক স্কেলে মেপে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া গাঁজার মোট ওজন ১৬.২৬ কেজি। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী যার আনুমানিক মূল্যায়ন করা হয়েছে ৮ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। পুরো বাজেয়াপ্তকরণ ও ওজনের প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সামনে ভিডিওগ্রাফি করা হয়।

ধৃত পাচারকারীর শারীরিক পরীক্ষার পর তাকে বাজেয়াপ্ত হওয়া গাঁজা এবং প্রাসঙ্গিক নথি লিখিত মেমোসহ পুরুলিয়া জিআরপিএসের  হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জিআরপিএস পুরুলিয়া কেস নম্বর  অনুযায়ী এনডিপিএস আইনের  মামলা রুজু করে ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে।