নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর
কথা ছিল, হবে গ্রানাইট হাব। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। বদলে গজিয়ে উঠেছিল একের পর এক পাথর ক্রাশার। তার জেরে রঘুনাথপুরের বেড়োতে ঐতিহ্যবাহী চণ্ডী পাহাড় ক্ষতবিক্ষত হওয়ার অভিযোগ তুলে রবিবারই পথে নেমেছিলেন স্থানীয়েরা। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার চণ্ডী পাহাড়ে পৌঁছে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখলেন রঘুনাথপুরের বিজেপি বিধায়ক মামণি বাউরি। পাহাড়ের পরিস্থিতি দেখে এদিন থেকেই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে যান তিনি।
রবিবার পুরাতন বেড়ো থেকে চণ্ডী পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় বিশাল মিছিল করেছিলেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, পাহাড় কাটার পাশাপাশি পাথর পরিবহনের জেরে গ্রামের রাস্তাও বেহাল। ওই এলাকায় পাথর ক্রাশারের কোনও অনুমতি দেয়নি বেড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতও। সেই আবহেই সোমবার পাহাড়ে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন বিধায়ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পাহাড় কাটার অভিযোগও খতিয়ে দেখেন তিনি। এর পরেই আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন মামণি।
২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তৃণমূলের আমলে বেড়ো ও খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রানাইট হাবের অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তার পর থেকেই চণ্ডী পাহাড় ঘিরে আন্দোলন চলছে। গত মাসের ২০ তারিখ পুরুলিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কোথাও কোনও পাহাড় কাটা হবে না। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোও পাহাড় কাটা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরেও বেড়ো চণ্ডী পাহাড়ে কাজ চলার অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছিল। রবিবারের মিছিলের পর সোমবার বিধায়কের সরেজমিন পরিদর্শন এবং কাজ বন্ধের নির্দেশে সেই আন্দোলনে আপাতত নতুন মোড় এল।