নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা ও বাঘমুন্ডি :
ইন্ডি জোটের সমীকরণে বিরাট ধাক্কা পঞ্চায়েত স্তরে। তৃণমূল, কংগ্রেস, আজসু এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্যদের সমর্থনে ঝালদা ১ ব্লকের তুলিন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদ দখল করল বিজেপি। সোমবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ভোটাভুটিতে বিজেপির ফলারি মাহাত প্রধান নির্বাচিত হন। একই দিনে বাঘমুন্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতির পদও যায় বিজেপির দখলে।
তুলিন গ্রাম পঞ্চায়েতে ২০২৩ সালের নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৬টি, তৃণমূল ৩টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ১টি, বিজেপি ১টি এবং আজসু ২টি আসন পেয়েছিল। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বাকি সদস্যদের সমর্থনে বোর্ড গড়েছিল অ-কংগ্রেসি জোট। পরে প্রধান সুষমা মাহাত ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। প্রয়াত হন উপপ্রধান। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও আস্থা ভোটের আগেই গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
সোমবার প্রধান নির্বাচনে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিজেপির ২, আজসুর ২, তৃণমূলের ৩ এবং কংগ্রেসের ১ জন—মোট ৮ জন সদস্য ফলারি মাহাতের পক্ষে ভোট দেন। ফলে বিজেপির নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।
নবনির্বাচিত প্রধান ফলারি মাহাত বলেন, “১২ জনের মধ্যে নির্দল ও ফরওয়ার্ড ব্লকের সমর্থনে ৮ জন আমাদের পক্ষে আছেন। আমরা সবাই মিলেমিশে এলাকার উন্নয়ন করব। সামনে দুর্গাপুজো থাকায় কাজগুলি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব, যাতে মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়।”
আজসুর সদস্য রাজেশ মাহাতের দাবি, “এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপির ফলারি বাবুকে প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে। আজসুর ২ জন, তৃণমূলের ৩ জন, বিজেপির ২ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন সদস্য-সহ মোট ৮ জনের সমর্থন ছিল।”
বিজেপির বাঘমুন্ডি বিধানসভার কো-কনভেনার জিতেন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, “তুলিন গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ববর্তী প্রধান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় সর্বদলীয় সমর্থনে বিজেপির ফলারি মাহাত নতুন প্রধান হয়েছেন। তৃণমূল, আজসু ও ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ আট জনের সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের জন্য কাজ করা হবে।”
অন্য দিকে, বাঘমুন্ডি পঞ্চায়েত সমিতিতেও একই দিনে ক্ষমতার সমীকরণ বদলেছে। ২৩টি আসনের মধ্যে ১৭টি ছিল তৃণমূলের দখলে। বিজেপির ছিল ৫টি এবং কংগ্রেসের ১টি। অনাস্থা প্রক্রিয়ার মধ্যে পূর্বতন সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদ ছাড়ার পর সোমবার নতুন করে ভোটাভুটি হয়। সেখানে বিজেপির পূর্ণিমা মাহাত সভাপতি এবং পরীক্ষিত মাহাত সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে তৃণমূলের ১৩ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন বিজেপির প্রার্থীদের সমর্থন করেন।
ফলে একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৃণমূলের হাতে থাকা সত্ত্বেও বাঘমুন্ডি পঞ্চায়েত সমিতি, অন্য দিকে তুলিন গ্রাম পঞ্চায়েত—দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে বিজেপির হাতে গেল স্থানীয় শাসনের দায়িত্ব। পদ্ম শিবিরের এই উত্থান ঘিরে জেলার গ্রামীণ রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।