সুইটি চন্দ্র ও শুভদীপ মাহাতো পুরুলিয়া:
রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম কাপড়ের বাজার পুরুলিয়া শহরের ঐতিহাসিক কাপড় গলিতে অবশেষে চলল বুলডোজার। প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমা শেষ হতেই দীর্ঘদিনের দখলদারি ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো। রাস্তার উপর বেআইনিভাবে বাড়ানো দোকানের অংশ এবং ড্রেনের উপর গড়ে ওঠা নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। ফলে বহু বছরের পুরনো সমস্যার সমাধানের পথে বিরাট পদক্ষেপ বলে মনে করছেন এখানকারই ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীদের একটা বড়ো অংশ।
মানবাজার থেকে ১৮৩৮ সালে মানভূম জেলার সদর শহর হয় পুরুলিয়া। ব্রিটিশদের বানানো শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মধ্যবিত্ত মানুষ জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যবসায়ীর প্রয়োজন ছিলো। ব্রিটিশদের কাছে খবর যায়, এক ব্যবসায়ী ধানবাদ থেকে চাইবাসা যাচ্ছেন ব্যবসা করার জন্য। তাঁকে নামানো হয় পুরুলিয়ায়। তিনিই কাপড় গলির প্রথম ব্যবসায়ী। তারপর থেকে আড়ে বহরে বেড়েইছে এই গলির ব্যবসা।
দীর্ঘদিন ধরেই কাপড় গলির চেহারা অত্যন্ত ঘিঞ্জি। বহু ব্যবসায়ী নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে রাস্তা দখল করে দোকান চালানোর ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বিপদের সময় দমকল, অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো চারচাকার গাড়ি প্রবেশ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল দুর্বিসহ।
বহুবার চেষ্টা চলে। কিন্তু দখলদারি সরানো সম্ভব হয়নি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিদ্যুতের তার, সংকীর্ণ রাস্তা এবং কাপড়ের গুদামঘেরা পরিবেশ এলাকাটিকে কার্যত একটি ‘জতুগৃহে’ পরিণত করেছিল। অতীতে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে এখানে। সেই কারণেই পুরসভা দখলদারদের নোটিশ দিয়ে অবৈধ অংশ নিজেদেরই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ৩৬ ঘন্টার সময়সীমা পার হতেই শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।
ব্যবসায়ী প্রেম দাগা বলেন, "আগে আমাদের সময় দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করেছি। যারা নিজেরা সরিয়ে নিয়েছে, তাদের আর কিছু বলা হয়নি। শুধু যেগুলো এখনও অবৈধ ছিল, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, "গলির ভেতরে কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার রাস্তা ছিল না। এখন সেই সুযোগ তৈরি হবে। খুব ভালো হয়েছে। ৪৯-৫০ বছরে এমন কাজ হয়নি। এখন বাড়ির লোকজনও সুবিধা পাবে। আগে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারত না।"
সোমবার রাস্তার ওপরে থাকা অবৈধ বর্ধিত অংশ এবং ড্রেনের ওপরের বেআইনি নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেখা যায় সক্রিয় ভূমিকায়।
মাইকিং করে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি কথা বলে ড্রেন ও রাস্তা পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেন তাঁরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, "একটি কমিটি তৈরি হোক। সেই কমিটি কাপড় গলিতে ফের অবৈধ দখল হচ্ছে কি না, দেখবে।"