ধর্ম ও পুজোপাঠ ব্লক শহর

শ্রাবণের প্রথম সোমবারে ভক্তির প্লাবন জেলা জুড়ে

জেলার বাঘমুন্ডির স্বনামধন্য লহরিয়া ও মফস্বল থানার চিড়কা শিবধামেও। ভিড় উপচে পড়ে দেউলঘাটা সহ জেলার অন্যান্য শিব তীর্থগুলিতেও। সাধারণ মানুষের এই ভক্তি ও আবেগ ঘিরে শ্রাবণের প্রথম দিনেই জেলা জুড়ে এক অনন্য সামাজিক মেলবন্ধনের আবহ তৈরি হয়েছে।
শ্রাবণের প্রথম সোমবারে ভক্তির প্লাবন জেলা জুড়ে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারে ভক্তি, পরব আর আঁটসাঁট নিরাপত্তার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখল ঝালদা। ভোররাতের আলো ফুটতে না ফুটতেই পুরো এলাকা রূপ নেয় এক পুণ্যতীর্থে। মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল আনন্দবাজারের ঐতিহ্যবাহী বেনা বাঁধ শিবমন্দির। কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, সপ্তাহের প্রথম দিনটিতে মন্দির চত্বরজুড়ে তৈরি হওয়া সুশৃঙ্খল পরিবেশ আর সাধারণ মানুষের আবেগ সব মিলিয়ে অন্যরকম এক আবহে দিনটি শুরু হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাস ও সোমবারের বিশেষ তিথিতে শিবের আরাধনা বহুদিনের পারম্পর্য। কথিত আছে, বিশ্বসংসার রক্ষায় নীলকণ্ঠের সেই বিষপানের স্মৃতিতেই শ্রাবণে গঙ্গাজল ঢেলে শিবের আরাধনা করেন অনুগামীরা। তবে এবার মন্দিরগুলোতে সেই প্রথা পালনের পাশাপাশি নজর কেড়েছে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলা ও মন্দির কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেনা বাঁধ মন্দিরে ভিড় বাড়তে থাকলেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রথম থেকেই বাড়তি সতর্ক ছিল স্থানীয় প্রশাসন। পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও লাইন সামলাতে ও ভক্তদের সুযোগ-সুবিধা তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন।

শুধু বেনা বাঁধই নয়, একই ধরনের উৎসবমুখর ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ চোখে পড়েছে ঝালদার বড়গ্রাম শিবমন্দিরসহ জেলার বাঘমুন্ডির স্বনামধন্য লহরিয়া ও মফস্বল থানার চিড়কা শিবধামেও। ভিড় উপচে পড়ে দেউলঘাটা সহ জেলার অন্যান্য শিব তীর্থগুলিতেও। সাধারণ মানুষের এই ভক্তি ও আবেগ ঘিরে শ্রাবণের প্রথম দিনেই জেলা জুড়ে এক অনন্য সামাজিক মেলবন্ধনের আবহ তৈরি হয়েছে।