নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর :
টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেওয়াই শুধু নয়, উঠে আসছে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অংকের জালিয়াতি ও বেআইনি অস্ত্র রাখার একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হওয়া জেলা তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আনসারির জাঁকালো কারবারের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। আর এই ঘটনার রেশ ধরে সাদ্দামের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা। এবার যোগ হলো বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আইন ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ জুলাই। রেলে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা তথা প্রভাবশালী ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে রঘুনাথপুর থানায় প্রথম এফআইআর দায়ের হয়। সেদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু পুলিশি জেরার মুখে পড়তেই একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করে এই চক্রের শেকড়।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত সাদ্দামকে সঙ্গে নিয়ে গত মঙ্গলবার তার গোপীনাথপুরের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তার শোয়ার ঘরের আলমারি থেকে উদ্ধার হয় একেবারে পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও রেলের দুটি ভুয়ো স্ট্যাম্প। তবে চমকের শেষ এখানেই নয় তল্লাশিতে মিলল কাপড়ে মোড়ানো একটি অত্যাধুনিক বেআইনি পিস্তল এবং রাউন্ড ভর্তি ম্যাগাজিন। সরকারি স্ট্যাম্প জাল করার পাশাপাশি কীভাবে তার কাছে ওই আগ্নেয়াস্ত্র এল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় জেলা পুলিশ মহলে।
পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে জালিয়াতির জাল ছিল বেশ বিস্তৃত। প্রথম মামলাটি রঘুনাথপুরে হলেও, পরবর্তীতে বান্দোয়ান ও পুরুলিয়া মফস্বল থানাতেও তার বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। এবার তার সাথে যুক্ত হলো আদ্রা থানার আর্মস অ্যাক্টের মামলা।
বৃহস্পতিবার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষে অভিযুক্তকে পুনরায় আদালতে তোলা হচ্ছে। জালিয়াতির মাধ্যমে কতজনের থেকে কত টাকা হাতানো হয়েছে এবং এই আগ্নেয়াস্ত্রের নেপথ্যে আর কোন প্রভাবশালী নাম রয়েছে, তা জানতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।