রাজনীতি ব্লক

গেরুয়া আবির মেখে ঝালদায় বিজেপিকে পঞ্চায়েতে বসালো তৃণমূল

তৃণমূলের গৃহকোন্দলকে কাজে লাগিয়ে ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল বিজেপি। তৃণমূলের সাতজন জয়ী সদস্যের মধ্যে চারজনের প্রকাশ্য সমর্থনে বিজেপির হেমানি মাহাত গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেন।
গেরুয়া আবির মেখে ঝালদায় বিজেপিকে পঞ্চায়েতে বসালো তৃণমূল

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

ভোট গণনার হিসাব উল্টে দিয়ে তৃণমূলের গৃহকোন্দলকে কাজে লাগিয়ে ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল বিজেপি। তৃণমূলের সাতজন জয়ী সদস্যের মধ্যে চারজনের প্রকাশ্য সমর্থনে বিজেপির হেমানি মাহাত গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেন। মঙ্গলবারের এই ক্ষমতা বদল ঘিরে বাঘমুণ্ডি বিধানসভা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

১২জন সদস্য বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে নির্বাচন হয়েছিল তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। যেখানে ৭টি আসন পেয়ে এককভাবে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল এবং বিজেপি পেয়েছিল ৫টি আসন। কিন্তু গত ১৮ মে দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন তৎকালীন তৃণমূল প্রধান প্রলয় চ্যাটার্জি। এরপর উপপ্রধানের মৃত্যুর কারণেও পদটি শূন্য ছিল।

ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের নবনিযুক্ত প্রধান হেমানি মাহাত বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে প্রধানের পদ শূন্য থাকায় এলাকার প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজ সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। দল আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।"

ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল 
সদস্য রেখাবালা মাহাত জানান, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য এলাকার উন্নয়ন। বিগত কিছুদিন ধরে পঞ্চায়েতের কাজ অচল হয়ে পড়েছিল, সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছিলেন না। আমরা বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার স্বার্থে এবং উন্নয়ন বজায় রাখতে আমরা চারজন তৃণমূল সদস্য বিজেপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

বাঘমুন্ডি বিধানসভার বিধায়ক রহিদাস মাহাত বলেন, "তৃণমূল দলটা এখন অন্তর্দ্বন্দ্বে জরাজীর্ণ। ওদের নিজেদের সদস্যদের ওপরই কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আজ ইলু-জারগো পঞ্চায়েতে যা ঘটল, তা তৃণমূলের স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত নীতিরই পরিণতি। মানুষ তো বটেই, এমনকি ওদের দলের পঞ্চায়েত সদস্যরাও বুঝে গেছেন যে তৃণমূলের সঙ্গে থেকে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই জয় সাধারণ মানুষের জয়।"

মঙ্গলবার নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন তৃণমূলের তিন সদস্য অনুপস্থিত থাকেন। উপস্থিত ছিলেন শাসকদলের চার ও বিজেপির চার সদস্য। ভোটাভুটির সময় তৃণমূলের চার সদস্যই সরাসরি বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন জানালে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় গেরুয়া শিবিরের। প্রধান নির্বাচনে বিজেপির জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো উপস্থিত ছিলেন, ছিলেন  বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো।ভোটাভুটির পর বিজেপির হেমানি মাহাত নতুন প্রধান হিসেবে ঘোষিত হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। গেরুয়া আবির খেলে চলে বিজয় উৎসব। গেরুয়া আবির মাখলেন তৃণমূল সদস্যরাও।