রাজনীতি

শহীদ দিবসে 'ভালো' তৃণমূলে আলো করলেন গুরুপদ- সন্ধ্যা, পুরুলিয়া থেকে মমতার সম্বল কিছু কর্মী

যে নেতাদের একসময় শহীদ দিবসের ভিড়ে শীর্ষ নেতাদের পাশে ছবি তোলার অনড় জেদ থাকত, তাঁরাই এবার ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবিও পোস্ট করেননি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবিষ্যৎ সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা বুঝতেই আপাতত ‘জল মাপছেন’ নেতৃত্ব থেকে কর্মীরা।
শহীদ দিবসে 'ভালো' তৃণমূলে আলো করলেন গুরুপদ- সন্ধ্যা, পুরুলিয়া থেকে মমতার সম্বল কিছু কর্মী

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই জেলা রাজনীতির সমীকরণও যে আমূল বদলে যায়, ২১ জুলাইয়ের দিনে পুরুলিয়ার ছবিটা যেন তারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে জেলা তৃণমূলের মধ্যে দেখা গেল চরম বিভ্রান্তি ও উদাসীনতা। একসময়ের উৎসবমুখর দিনটি এবার পুরুলিয়া জুড়ে কাটল একেবারে নিস্তরঙ্গভাবে। শীর্ষ নেতৃত্বের টানাপোড়েনে দিশাহীন নিচুতলার কর্মীরা কোথাও নেই আবেগ, উল্টে দেখা গেল স্রেফ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার এক নীরব কৌশল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব এখন কার্যত একাধিক শিবিরে বিভক্ত। একদিকে ঋতব্রত শিবিরে হাজির ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং পুরুলিয়ার আদিবাসী নেতা গুরুপদ টুডু সহ একাধিক ব্লক স্তরের নেতা। অন্যদিকে, বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে মমতার কর্মসূচিতে দেখা মিলল কিছু নিচুতলার কর্মীদের। তবে কোনো পক্ষই একে অপরের সাথে সমন্বয় রক্ষা করেননি। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়, দুই শিবিরের সমর্থকরা পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও, সমাজমাধ্যমে তার প্রচার থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ গুটিয়ে রেখেছিলেন। যে নেতাদের একসময় শহীদ দিবসের ভিড়ে শীর্ষ নেতাদের পাশে ছবি তোলার অনড় জেদ থাকত, তাঁরাই এবার ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবিও পোস্ট করেননি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবিষ্যৎ সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা বুঝতেই আপাতত ‘জল মাপছেন’ নেতৃত্ব থেকে কর্মীরা।

অতীতে ২১ জুলাই মানেই পুরুলিয়া জেলা জুড়ে বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের যে চিত্র ছিল, এবার তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। মঙ্গলবার জেলার প্রতিটি রুটে সঠিক পরিমাণে বেসরকারি বাস চলেছে। যাত্রীদের কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।
কলকাতা থেকে পুরুলিয়ামুখী ট্রেন ও দূরপাল্লার বাসেও ২১ জুলাই ফেরত কর্মী-সমর্থকদের সেই বাঁধভাঙা ভিড় চোখে পড়েনি।
ঋতব্রত শিবিরের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানালেও, বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন মেলেনি। অন্যদিকে, মমতার শিবিরের পক্ষেও নিশ্চিত কোনো পরিসংখ্যান দেওয়ার মতো নেতৃত্ব জেলায় দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পুরুলিয়ার রাজনীতিতে যে এক বড় ধরণের শূন্যতা ও নীরবতা তৈরি হয়েছে, এদিনের ২১ জুলাই তা স্পষ্ট করে দিল।