পুরুলিয়া মিরর ডিজিটাল ডেস্ক:
ডাক্তার ফি সহ স্বাস্থ্য পরিষেবার অতিরিক্ত খরচ। সেই সঙ্গে অনলাইন পরীক্ষার সময় ভিনরাজ্য বা পাশের জেলায় দৌড়াদৌড়ির হয়রানি, টাকা খরচা। পুরুলিয়ার বাসিন্দাদের এই দুই সমস্যা এ বার পৌঁছল বিধানসভার অন্দরে। স্থানীয় মানুষের দাবিকে প্রশাসনিক স্তরে তুলে ধরে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন জেলার দুই বিধায়ক যথাক্রমে পুরুলিয়ার
সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতো।
সাধারণ ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কথা মাথায় রেখে বেসরকারি চিকিৎসকদের ভিজিট বা ফি নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দিয়েছেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি জানান, "প্রাইভেট চিকিৎসকদের ফি সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।" অন্যান্য রাজ্যে যেখানে বেসরকারি চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব হচ্ছে। সেখানে এখানেও রাজ্য সরকারকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ফি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরুলিয়ার সরকারি হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন, দালাল চক্রের প্রভাব নির্মূল করা এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ারও আর্জি জানান ।
অন্যদিকে, জেলার পড়ুয়াদের অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক ধকলের কথা তুলে ধরেন জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো। বিভিন্ন সর্বভারতীয় ও রাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য পুরুলিয়াতেই আধুনিক অনলাইন পরিকাঠামো বা ‘অনলাইন এক্সাম সেন্টার’ গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি। বর্তমানে জেলার পরীক্ষার্থীদের টাটানগর, ধানবাদ কিংবা আসানসোলে যেতে হয়। বিধায়কের মতে,
"যাতায়াতের কারণে পরীক্ষার্থীদের সময় ও অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়।
পরীক্ষার আগে দূরদূরান্তে যাওয়ার ফলে তরুণদের উপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হয়। জেলাতেই অনলাইন আধুনিক সেন্টার তৈরি হলে স্থানীয় হাজার হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবেন।"
জনস্বার্থ সংবলিত এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিধানসভায় উত্থাপিত হতেই জেলা জুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, রাজনৈতিক মতভেদ সরিয়ে রেখে জেলাবাসীর এই মৌলিক চাহিদাগুলি রাজ্য সরকার পূরণ করবে।
এমনই আশা এই জেলার মানুষজনের। আসলে দীর্ঘ বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা। অনেক ক্ষেত্রেই
পরিষেবা মূলক দিকগুলিতে এই জেলা বেশ পিছিয়ে আছে আজও। রাজ্যে নতুন সরকার হওয়ায় জেলার মানুষ ভীষণভাবে আশাবাদী।