ক্রাইম ব্লক

বিশাল এলাকায় বেআইনি পাথর খাদান ঘিরে রঘুনাথপুরে পদক্ষেপ জেলা পুলিশের

সরকারি অনুমতি ছাড়া বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে খনিজ সম্পদ চুরির অভিযোগে রঘুনাথপুর থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করা হলো তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বিশাল এলাকায় বেআইনি পাথর খাদান ঘিরে রঘুনাথপুরে পদক্ষেপ জেলা পুলিশের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর

জেলাজুড়ে অবৈধ খনিজ উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সরকারি অনুমতি ছাড়া বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে খনিজ সম্পদ চুরির অভিযোগে রঘুনাথপুর থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করা হলো তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও ভূমি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,  বুধবার রঘুনাথপুর ১ নং ব্লকের ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, নিতুড়িয়া ব্লকের জনার্দনডি গ্রামের বাসিন্দা পরিমল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধাতড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নুল আনসারি ও মজনু আনসারি এই তিনজন যৌথভাবে ধাতড়া মৌজার সরকারি জমিতে বিশাল অবৈধ কোয়ার্টজ খনি চক্র চালাচ্ছিলেন।

কোনো বৈধ কোয়ারি পারমিট বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এই গৌন খনিজ বেআইনিভাবে উত্তোলন, মজুত, পরিবহন ও বিক্রয়ের কাজ চলছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পুলিশের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। মেলে
ব্যাপকভাবে খনন করা গভীর গর্ত ও অবৈধ খনির অস্তিত্ব। বেআইনিভাবে মজুত করা প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ ঘনফুট সন্দেহভাজন কোয়ার্টজ।

স্থানীয় সূত্রে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এলাকায় সরকারি জমি দখল করে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল বলে দাবি দপ্তরের। এই কাজে একাধিক ট্রাক্টর, একটি জেসিবি এবং একটি ক্রাশিং মেশিন ব্যবহার করা হতো।
সরকারি খনিজ চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং প্রচলিত খনি ও ভূমি আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘনের অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রঘুনাথপুর থানায় একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।