নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
এসসি এসটি অ্যাট্রোসিটি আইনে দায়ের হওয়া মামলায় তিন দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে সোমবার পুরুলিয়া জেলা আদালত থেকে জামিন পেলেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি গৌরব সিংহ এবং সুজয় ঘনিষ্ঠ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তুষার অবস্তি।
তবে আদালতে এই মামলায় জামিন মিললেও আপাতত মুক্তি মিলছে না সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কারণ, পুঞ্চা থানায় সরকারি নথি বিকৃতির অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক মামলায় তাঁর জামিনের আবেদন এ দিন মঞ্জুর হয়নি। ফলে ওই মামলায় তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুকে ব্যাথার উপসর্গ নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
অন্যদিকে, একই মামলায় অভিযুক্ত গৌরব সিংহ এবং তুষার অবস্তি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তদন্ত চললেও এই মামলায় আপাতত তাঁদের আর পুলিশ বা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, তফসিলি জাতিভুক্ত এক ব্যক্তিকে হুমকি, মারধর ও অপমান করার অভিযোগে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরব সিংহ এবং তুষার অবস্তির বিরুদ্ধে এসসি-এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে মামলা রুজু হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে জামিন মঞ্জুর করে আদালত। তবে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুঞ্চা থানার পৃথক মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলায় তাঁর মুক্তি আপাতত অনিশ্চিত রয়ে গেল। সেখানে সরকারি নথি বিকৃত করায় মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে জামিন হয়নি এই মামলায় অপর দুই অভিযুক্ত পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ধরম এবং কর্মাধ্যক্ষ চরণপাহাড়ি দাসের।
এদিকে বরাবাজারের ঘটনায় তৃণমূল নেতা চন্দন সিং মল্লকে ফের ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।