সাধারণ খবর ক্রাইম

জেলার ১৭০ গ্রাম পঞ্চায়েতে আর ৩ পুরসভায় পুলিশের হানা, বাজেয়াপ্ত জন্ম-মৃত্যু রেজিস্টার

পরিবর্তনের পর সরকারের কড়া নির্দেশে এবার পুরুলিয়ার ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েত আর তিনটি পুরসভায় একযোগে নজরদারি শুরু করলো পুলিশ। নজিরবিহীন এই পুলিশি অভিযানে সরাসরি পঞ্চায়েতগুলির জন্ম-মৃত্যু রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করে তল্লাশি শুরু করেছেন জেলার পুলিশ অফিসাররা।
জেলার ১৭০ গ্রাম পঞ্চায়েতে আর ৩ পুরসভায় পুলিশের হানা, বাজেয়াপ্ত জন্ম-মৃত্যু রেজিস্টার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া

বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রে কারচুপির অভিযোগে সরগরম ছিলো রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আমলে হয়েছে ব্যাপক গোলোযোগ। পরিবর্তনের পর সরকারের কড়া নির্দেশে এবার পুরুলিয়ার ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েত আর তিনটি পুরসভায় একযোগে নজরদারি শুরু করলো পুলিশ। নজিরবিহীন এই পুলিশি অভিযানে সরাসরি পঞ্চায়েতগুলির জন্ম-মৃত্যু রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করে  তল্লাশি শুরু করেছেন জেলার পুলিশ অফিসাররা।
নির্বাচনের আগে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনী  চলাকালীন রাতারাতি ঢালাও শংসাপত্র বিলি ঘিরে উঠেছে ভুয়ো দলিল ও জালিয়াতির প্রশ্ন। সেই রহস্যের জট ছাড়াতেই প্রতিটি পঞ্চায়েতে হানা দিয়ে নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ।

পুরুলিয়া ২ নং ব্লকের ঘোঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট বাবলু দাস  বলেন, "রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী আজ আমাদের পঞ্চায়েতে পুলিশ অফিসাররা এসেছিলেন। ওঁরা মূলত আগের সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্টারের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের নির্দেশে আমরা সমস্ত নথি ও রেজিস্টার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবেই চলছে।" একই কথা বলেছেন ঝালদা পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার অসীম বিশ্বাস। 
ঘোঙা গ্রামের বাসিন্দা  পরমেশ্বর কালিন্দী জানান, "ভোটের মুখে এত বিপুল সংখ্যক জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট নিয়ে যেভাবে চর্চা চলছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষও কিছুটা বিভ্রান্ত। তবে পুলিশের এই অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আসল সত্যিটা সামনে আসা দরকার। কেউ যদি সত্যিই কোনো জালিয়াতি করে থাকে, তবে তার উপযুক্ত শাস্তি পাওয়া উচিত।"
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে কোনো প্রকার কারচুপি, ভুয়ো তথ্য বা বেনিয়ম  পেলে ছাড় দেওয়া হবে না অভিযুক্তদের। রেহাই পাবেন না কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকও।