নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
ডিজিটাল ভারতবর্ষেও এক গ্লাস পানীয় জলের জন্য দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত উহাতু গ্রামের কালিন্দীপাড়ার মানুষজন। পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা সেই একই দুর্ভোগ আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে এখানকার ৭০টি পরিবারকে। পানীয় জলের একমাত্র ভরসা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা রুপাই নদী। বালুচর খুঁড়ে সংগৃহীত কাদা-জলই এখন তাদের তেষ্টা মেটানোর একমাত্র উপায়। স্বাধীনতার ৭৯ বছরেও।
গ্রীষ্মকালে নদীর বালিচরের গর্ত থেকে কোনোক্রমে ফোঁটা ফোঁটা জল জমিয়ে কাজ চালানো গেলেও, বর্ষা নামলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির জলে নদীর জল ঘোলা ও নোংরা হয়ে যাওয়ায় সেই জল আর কোনোভাবেই ব্যবহারের যোগ্য থাকে না। গ্রামে একটি পানীয় জল প্রকল্পের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বহুদিন ধরেই স্রেফ 'শো-পিস' হয়ে পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পার্বতী কালিন্দী বলেন,
"বছরের পর বছর ধরে আমরা এই নদীর কাদা-জল খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। গরমের সময় গর্ত খুঁড়ে ফোঁটা ফোঁটা জল তুলতে হয়, আর বর্ষাকালে নদী ঘোলা হয়ে গেলে খাওয়ার জলটুকুও পাওয়া যায় না।"
গ্রামবাসী সুমিত্রা কালিন্দী বলেন,কলের কাঠামো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে এক ফোঁটা জলও পড়ে না। সরকার বদলে যায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো বদল হয় না।"
স্থানীয় বাসিন্দা চাঁদমনি সিং মুড়া জানান, "নেতা-মন্ত্রীরা ভোটের সময় আসেন, অনেক বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু ভোট মিটলেই আর কারো দেখা মেলে না। আমরা আজও পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছি।"
সেই বাম আমল থেকে তৃণমূলের ১৫ বছর। উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছেন এঁরা। প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের কাছে
ধর্ণা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার এসেছে। তাই আশায় বুক বাঁধছেন ওই এলাকার মানুষজন।
বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাত বলেন, "উহাতু গ্রামের এই পানীয় জলের সমস্যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অতি দ্রুত প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগ নিয়ে এই জলসংকট দূর করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"