নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা :
এলাকার সামাজিক, প্রশাসনিক ও কৃষকদের একাধিক মৌলিক ও দীর্ঘদিনের দাবি সনদের ভিত্তিতে স্মারকপত্র প্রদান করল 'ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ'। ২১ জুলাই ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও বিএলএলআরও এবং সহ-কৃষি অধিকর্তার কাছে সংগঠনের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে পৃথক পৃথক ডেপুটেশন জমা দেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সামনে প্রধানত তিন ধরনের দাবি পেশ করা হয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে সমাজের সমস্ত যোগ্য মহিলাকে সমান সুযোগ ও সুবিধা দিতে হবে। সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনতিবিলম্বে কুড়মালী ভাষায় পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বজায় রেখে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
পুরুলিয়া জেলায় জমি-সংক্রান্ত বর্তমান 'জমি সিলিং' বা সিজার প্রথা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে ডেপুটেশনে। তোলা হয়েছে ২০০৬ সালের বন অধিকার আইন সঠিকভাবে কার্যকর করার দাবি । কোটশিলা এলাকায় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই বালির জোগান সুনিশ্চিত করার আর্জি জানানো হয়েছে। ছোটনাগপুর প্রজা স্বত্ব আইন বা সিএনটি অ্যাক্ট কঠোরভাবে লাগু করার দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা । দাবি,
ডিজিটাল খতিয়ানে প্রজার জাতি হিসেবে স্পষ্ট অক্ষরে 'কুড়মি' উল্লেখ থাকতে হবে।
ভূমি রেকর্ডে সমস্যা দূর করে দ্রুত সঠিক আর.এস. রেকর্ড অনুযায়ী এল.আর. রেকর্ডভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এর সাথে জমি সংক্রান্ত হয়রানি বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান নেতৃত্ব।
অন্যদিকে কৃষি দপ্তরে ডেপুটেশন দিয়ে দাবি তোলা হয়, সারের কালোবাজারি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং নির্ধারিত সরকারি মূল্যে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
পঞ্চায়েত ভিত্তিক প্রকৃত কৃষকদের পর্যাপ্ত বীজ ও সার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।প্রতি কুইন্টাল ৩৫০০ টাকা নির্ধারণ করা, কৃষকদের সুবিধার্থে 'কৃষি কমিশন' গঠন এবং প্রায় ৭০% ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়।
এদিনের এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিশিষ্ট সদস্য ও প্রতিনিধি ডাঃ সুজিত মাহাত, বীরবল মাহাত, কাশিনাথ মাহাত, নন্দলাল মাহাত, রাজেন্দ্র নাথ মাহাত, ভৃগুরাম মাহাত প্রমুখ ।