সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস । মানবজাতির মহাকাশ বিজয়ের ঐতিহাসিক স্মারক ২০ জুলাই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে মহাকাশ বিজ্ঞানে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে স্পেস সায়েন্স বা মহাকাশ বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং ভারতের উত্তরোত্তর সাফল্যের চিত্রটি তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে নতুন করে কৌতূহল ও উৎসাহের সঞ্চার করবে। সেই সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রে থাকছে চাঁদ দেখার সুযোগ।
পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের শিক্ষা আধিকারিক সুমন কর্মকার বলেন, "চাঁদে ভারতের সক্ষমতা ইতিমধ্যে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণিত হয়েছে। ভারত চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের পর থেমে না থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে চন্দ্রযান-৪ ও চন্দ্রযান-৫ এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণার পরিধি বাড়িয়ে চাঁদে বসতি স্থাপনের মতো পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে। শুধু সরকারি সংস্থাই নয়, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাও এখন এই গবেষণায় এগিয়ে আসছে"।
জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের পাবলিক রিলেশনস এক্সিকিউটিভ দীপান্বিতা চক্রবর্তী বলেন, "আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যতে মহাকাশ বিজ্ঞান ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করুক এবং মহাবিশ্বকে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করার সুযোগ তৈরি করুক। আমাদের চাঁদ ছাড়াও অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহ ও গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় তারা অবদান রাখুক, যাতে বিশ্বমানচিত্রে ভারতের নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আজকের দিনে আমরা যদি তাদের এই লক্ষ্যে সামান্যতম অনুপ্রেরণাও দিতে পারি, তবেই আমাদের উদ্যোগ সফল হবে।"
পুরুলিয়া জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র শিবশম্ভু কুমার বলে,"আজ যে এই ইন্টারন্যাশনাল মুন ডে-তে আমরা এসেছি, এখানে আমাদের খুবই ভালো লাগল। এখানে এসে আমরা অনেক কিছু তথ্য জানতে পারলাম । যেমন চাঁদের ব্যাপারে, ইন্টারন্যাশনাল মুন ডে-র ব্যাপারে তার সাথে যে স্পেস, স্পেসের সাথে যে আলাদা আলাদা গ্রহগুলো আছে, সে আলাদা আলাদা গ্রহগুলোর সব গ্রহেরই অনেক ইনফরমেশন আমরা জানতে পারলাম। আর এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। আর প্রথমবার আমি এখানে এসেছি।"
ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের এই ধরনের ইতিবাচক সম্পৃক্ততা পুরুলিয়া জেলা থেকে নতুন প্রজন্মের গবেষক তৈরি করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আয়োজকরা।