রাজনীতি

সোশ্যাল মিডিয়া ঘিরে জল্পনা, ঋতব্রত শিবিরে যাচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি, সুশান্ত?

যাঁরা এখনও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেননি বলে পরিচিত, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কারও ফোন বন্ধ, কেউ আবার ফোন ধরছেন না। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ঘিরে জল্পনা, ঋতব্রত শিবিরে যাচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি, সুশান্ত?

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

এক দিকে কালীঘাটের তৃণমূল, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন শিবির— দুই পক্ষই কলকাতায় ২১ জুলাই শহিদ দিবস কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে নতুন জল্পনা। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং বাঘমুণ্ডির প্রাক্তন বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো কি ঋতব্রত শিবিরের পথে? নিশ্চিত কোনও ঘোষণা না হলেও তাঁদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা ইঙ্গিত ঘিরে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

পুরুলিয়া জুড়ে ২১ জুলাইকে ঘিরে অতীতের সেই আবেগ অনেকটাই ফিকে। হবেই বা না কেন? একসময় বাংলায় দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলই এখন কার্যত বিভক্ত। তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জঙ্গলমহলের এই জেলাতেও।

কালীঘাট তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে পুরুলিয়া থেকে কোন কোন নেতা ও কর্মী যোগ দেবেন, সোমবার রাত পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়। যাঁরা এখনও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেননি বলে পরিচিত, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কারও ফোন বন্ধ, কেউ আবার ফোন ধরছেন না। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

অন্য দিকে ঋতব্রত তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার দাবি করেছেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দু'হাজার নেতা-কর্মী কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তাঁদের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং প্রাক্তন বিধায়ক সুশান্ত মাহাতোও। যদিও এ বিষয়ে তাঁদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মেলেনি।

সুশান্ত মাহাতো এক সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। অন্য দিকে সন্ধ্যারানি টুডুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন নেতা হিসেবেই দেখা হত। ফলে তাঁদের সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনের জল্পনা রাজনৈতিক মহলে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। সম্প্রতি সুশান্ত মাহাতো নিজের মেটা প্রোফাইলের ছবি বদলেছেন। আবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে সন্ধ্যারানি টুডুর পোস্টও নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। যদিও এই ঘটনাগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্কের সরকারি বা নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

এ দিকে তৃণমূলের এই অস্থিরতার আবহে নিজেদের সংগঠনকে চাঙ্গা করার সুযোগ দেখছে কংগ্রেস। পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, ‘‘ ২১ জুলাই আমাদের কর্মীরাই তো শহিদ হয়েছিলেন। জেলা থেকে প্রায় দু'হাজার কংগ্রেস কর্মী শহিদ মিনারের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।’’

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে কলকাতার মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ২১ জুলাই কংগ্রেসে থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালন করতেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূল কংগ্রেসও 'শহিদ দিবস' পালন করে। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে এই সমাবেশ তৃণমূলের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত। তবে এ বছর দলীয় বিভাজনের আবহে কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির— উভয়েই পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ফলে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি এ বার শুধু স্মরণসভা নয়, রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।