নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
ডিজিটাল বার্তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক রাশ বুকচাপা যন্ত্রণা? নাকি এক মুহূর্তের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কেড়ে নিল ২২ বছরের এক তরুণের তাজা প্রাণ? শুক্রবার সকালে পুরুলিয়া শহরের এল.এম. ত্রিবেদী লেনের এক ভাড়া বাড়ি থেকে জনার্দন মাহাতো নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডুবকিডি গ্রামের বাসিন্দা জনার্দন গত এক বছর ধরে পুরুলিয়া শহরের এল.এম. ত্রিবেদী লেনে দুই বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। শুক্রবার ভোররাত ঠিক ৫টা নাগাদ নিজের মোবাইল ফোনে একটি রহস্যময় স্ট্যাটাস আপডেট করেন তিনি। সকাল হতেই সেই স্ট্যাটাস দেখে উদ্বেগে পরিবারের লোকজন তাঁকে একের পর এক ফোন করতে শুরু করেন। কিন্তু ওপার থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির মালিক দরজায় ধাক্কা দেন। ভেতর থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই দেখা যায়, সিলিং থেকে ঝুলছে জনার্দনের দেহ। খবর পেয়ে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বাড়ির মালিক সলিল চৌধুরী
বলেন, "সকালে ওর পরিবার থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে জনার্দন ফোনে একটা অস্বাভাবিক স্ট্যাটাস দিয়েছে এবং ফোন তুলছে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিই, কিন্তু ভেতর থেকে সাড়াশব্দ পাইনি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাড়ার লোকজনকে ডেকে দরজা ভাঙতেই এই করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে।"
নিহতের ভাই বলেন, ভোরবেলা দাদার "হোয়াটসঅ্যাপের রহস্যময় স্ট্যাটাসটা দেখে চমকে উঠেছিলাম। আমরা বারবার ওকে ফোন করার চেষ্টা করি, কিন্তু ও কোনো ফোন ধরেনি। চরম উদ্বেগে বাড়ির মালিককে খবর দিই গিয়ে দেখার জন্য। শেষমেশ যে এমন খবর শুনতে হবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। কী এমন ঘটল যে দাদাকে এই পথ বেছে নিতে হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।"
ঘটনাটি নিছকই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। মৃতের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং শেষ কয়েক ঘণ্টার কল রেকর্ড ও সোশ্যাল মিডিয়া মেসেজ পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।