নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
দেওয়াল জীর্ণ, ছাদ ভাঙাচোরা। তার উপর ত্রিপল খাটিয়ে কোনও মতে সংসার। ঘরে বিদ্যুৎ নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই জল ঢোকে। আর ভারী বর্ষা নামলেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানীয় স্কুলে রাত কাটাতে হয়। সেই ভাঙা ঘরেই অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং বৃদ্ধা মাকে নিয়ে দিন কাটছে দিনমজুর প্রেমনাথ বাউরির। বছরের পর বছর আবাস যোজনার বাড়ির জন্য আবেদন করেও মেলেনি ঘর। ফলে বর্ষার মরসুমে মাথার উপর ছাদটুকুও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংসার চালাতে প্রতিদিনই লড়াই করতে হয় প্রেমনাথকে। দিন আনা-দিন খাওয়া রোজগারে পরিবারের নিত্যদিনের খরচ সামলানোর পর রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ। নিজের টাকায় নতুন বাড়ি তৈরির কথা ভাবাও তাঁর কাছে কার্যত অসম্ভব।
বাড়িটির হালও যথেষ্ট উদ্বেগের। যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবারের। নেই বিদ্যুৎ সংযোগও। ফলে রাত নামলেই অন্ধকারে থাকতে হয়। অন্ধকার ঘরে বিষাক্ত পোকামাকড়ের ভয় তো রয়েছেই। তার সঙ্গে বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ে জল।বৃদ্ধা কল্যাণী বাউরির পেনশন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে পরিবারের। তাঁদের দাবি, আগে বৃদ্ধভাতা পেতেন কল্যাণী। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সেই পেনশন নিয়মিত মিলছে না।
দিনমজুর প্রেমনাথ বাউরি বলেন, "প্রতিদিন খেটে যা পাই, তা দিয়ে সংসারের নিত্যদিনের খরচ সামলানোই কঠিন। তার ওপর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ রয়েছে। নিজের উপার্জনে নতুন বাড়ি তৈরি করা আমার পক্ষে অসম্ভব। বর্ষা এলেই আতঙ্কে রাত কাটাতে হয়, ঘরটা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এতদিন ধরে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন জানিয়ে আসছি, কিন্তু আজও মাথা গোঁজার মতো একটা নিরাপদ আশ্রয় পেলাম না।"
প্রেমনাথের মা কল্যাণী বাউরি বলেন, "আগে নিয়মিত বৃদ্ধভাতা পেতাম, তা দিয়ে কিছুটা হলেও উপকার হত। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই পেনশন আর নিয়মিত মিলছে না। একদিকে ভাঙা ঘরে বিষাক্ত পোকামাকড়ের ভয়, অন্যদিকে রাতে অন্ধকার, এই বয়সে এভাবে দিন কাটানো ভীষণ কষ্টের।"
পুরসভার আধিকারিক সুমিত বক্সী বলেন, "আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সরকারি নীতি ও যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী যাতে পরিবারটি দ্রুত আবাস যোজনার ঘর পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"