নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
উৎসবের দিনে ভুলে যাওয়া হলো রাজনৈতিক সমীকরণ, সামনে উঠে এল কেবলই সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের চিরাচরিত সংস্কৃতি। রাখি পূর্ণিমার পবিত্র আবহে তেমনই এক অনন্য রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়ার ঝালদা পৌরসভা। শুক্রবারে পুরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই রাখিবন্ধন উৎসব দলীয় মতপার্থক্য পেরিয়ে পরিণত হয় সাধারণ মানুষের মিলনমেলায়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতর, পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন এবং ঝালদা মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের যৌথ উদ্যোগে পুরসভা চত্বরে আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একই মঞ্চে পাশাপাশি দেখা গেল শাসক ও বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাত উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, "রাখি কেবল ভাই-বোনের ভালোবাসার সুতোয় বাঁধা পড়ে থাকে না। আজকের দিনে সমাজের প্রতিটি স্তরে সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিতকে আরও মজবুত করাই এই উৎসবের আসল উদ্দেশ্য।"
রাজনৈতিক সৌজন্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত দেখা যায় পৌরসভা প্রাঙ্গণে, যেখানে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাত, ঝালদা পুরসভার উপ-পুরপ্রধান সুদীপ কর্মকার এবং কাউন্সিলর বিজয় কান্দু। উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা হাতে রাখি বেঁধে সমাজে একতার আবহ বজায় রাখার শপথ নেন
এলাকার সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরে বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন, "উৎসবই আমাদের মেলাবার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। উৎসবের এই দিনগুলিতে কোনো রাজনৈতিক রঙ থাকা উচিত নয়। ঝালদার মানুষ যাতে চিরকাল একসাথে, শান্তিতে ও ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করতে পারে সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।"
পুরসভা চত্বরে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সমগ্র ঝালদা শহরজুড়েই ছড়িয়ে পড়ে উৎসবে আনন্দ-মেজাজ। পুরসভার পক্ষ থেকে শহরের ব্যস্ত মোড়গুলিতে সাধারণ পথচলতি মানুষদের রাখি পরানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়। ঝালদা শহর মণ্ডলের মহিলা নেতৃত্বকে সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষ, গাড়িচালক ও পথচারীদের হাতে সম্প্রীতির রাখি পরিয়ে দেন বিজেপি নেত্রী মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়।
উৎসবের এই আন্তরিক ছোঁয়ায় ঝালদা শহরে দিনভর বজায় ছিল সম্প্রীতি ও মেলবন্ধনের উষ্ণ পরিবেশ।