সাধারণ খবর ব্লক

টানা দু-মাস বেতন নেই! কর্মবিরতিতে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী কর্মীরা

দু-মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে কর্মবিরতি চললেও, রোগীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আংশিক পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে।
টানা দু-মাস বেতন নেই!  কর্মবিরতিতে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী কর্মীরা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

বকেয়া বেতনের দাবিতে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসের অস্থায়ী কর্মীরা। দু-মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে কর্মবিরতি চললেও, রোগীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আংশিক পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর,  ১৯২ জন অস্থায়ী কর্মী টানা কয়েক বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। তাদের অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক এজেন্সির গাফিলতির কারণেই এই বেতন সংকট। দূর-দূরান্ত থেকে আসা  কর্মীদের দাবি, সামান্য বেতনের টাকাও যদি মাসের পর মাস আটকে থাকে, তবে প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ ও সংসারের দেনা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।


আন্দোলনকারী সোমনাথ চট্টরাজ বলেন,"জেলার অন্যান্য সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কর্মীরা সময়মতো বেতন পেয়ে গেলেও আমাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ম্যাডামের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি সংশ্লিষ্ট এজেন্সি। ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূর থেকে যাতায়াত করে সামান্য উপার্জনে পরিবার চালানোই এখন দায় হয়ে উঠেছে। সময়মতো বেতন না পেয়ে স্থানীয় দোকানদার ও অন্যান্যদের কাছ থেকে নেওয়া ধারদেনা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।"

পুরুলিয়া জেলা বিজেপির কোর কমিটির সদস্য গৌতম রায় বলেন,
"বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সামান্য বেতনে কাজ করা এই দরিদ্র মানুষগুলোর ওপর বেতন বন্ধ হওয়া চরম আঘাত। কর্মীদের দাবি যুক্তিসঙ্গত হওয়ায় পুরো বিষয়টি দ্রুত রাজ্য সরকারের নজরে আনা হচ্ছে এবং এজেন্সির সাথে আলোচনা করে বকেয়া মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে"।

রোগী পরিষেবা পুরোপুরি সচল রাখার পাশাপাশি নিজেদের ন্যায্য দাবির ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী কর্মচারীদের এই সুশৃঙ্খল আন্দোলন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অব্যাহত রয়েছে। তবে রোগীদের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।