ক্রাইম শহর

২১৭ টি ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে ৮৩ লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণা, পুরুলিয়া পুলিশের জালে বাংলা-ঝাড়খণ্ডের গ্যাং

জেলার সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাইবার ক্রাইম থানার জালে ধরা পড়েছে এক আন্তঃরাজ্য প্রতারক চক্র। উদ্ধার হওয়া তথ্যে চোখ কপালে ওঠার যোগাড় তদন্তকারীদের। ২১৭টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা সরাতে সক্ষম হয়েছিল এই অপরাধী গ্যাং।
২১৭ টি ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে ৮৩ লক্ষ টাকার  সাইবার প্রতারণা, পুরুলিয়া পুলিশের জালে বাংলা-ঝাড়খণ্ডের গ্যাং

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: 

সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা নিমেষেই উধাও! প্রযুক্তিকে ঢাল বানিয়ে চলা এক সুসংগঠিত সাইবার অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। জেলার সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাইবার ক্রাইম থানার জালে ধরা পড়েছে এক আন্তঃরাজ্য প্রতারক চক্র। উদ্ধার হওয়া তথ্যে চোখ কপালে ওঠার যোগাড় তদন্তকারীদের। ২১৭টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা সরাতে সক্ষম হয়েছিল এই অপরাধী গ্যাং।

ঘটনার সূত্রপাত পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সমন্বয় পোর্টালে আসা একাধিক অভিযোগ থেকে। সাধারণ গ্রাহকদের জমানো টাকা হঠাৎ গায়েব হওয়ার তদন্তে নেমে সাইবার থানার আধিকারিকরা দেখেন, জালিয়াতদের নজর গিয়ে পড়েছে জেলার একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। মোট ৮২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা  ২১৭টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও করে নেন সাইবার অপরাধীরা। 
তদন্তের মূল মোড় ঘোরে গত ৩০ আগস্ট। বান্দোয়ানের ধাদিকা গ্রাম থেকে শ্যামলবরণ সহিস নামে এক যুবককে প্রথম জালে তোলে পুলিশ। শ্যামলের নিজস্ব একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটেই মেলে ৪০ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ। তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে টানা জেরা করতেই একে একে ফাঁস হতে থাকে এই চক্রের বাকি মাথাদের নাম।
শ্যামলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঝাড়খন্ড ও পুরুলিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আরও ৫ মূল অভিযুক্তকে। ধৃতরা হলো,
ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা সরোজ তেওয়ারি ও সন্দীপ বাউরি, পুরুলিয়ার বাসিন্দা রকি বাউরি, অঙ্কিত সিংহ ও আয়ুশ সিংহ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকরা যৌথভাবে একটি চক্র গড়ে তুলেছিল। এদের মূল কাজ ছিল নিরীহ মানুষের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং সেই টাকা বিভিন্ন ভুয়ো  অ্যাকাউন্টে ভাগ ভাগ করে ছড়িয়ে দেওয়া। যাতে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া যায়। তবে সমন্বয় পোর্টাল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করে পুরো নেটওয়ার্কটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সাইবার ক্রাইম থানা। বৃহস্পতিবার  ধৃত পাঁচ অভিযুক্তকেই কড়া নিরাপত্তায় পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় মাপের আর্থিক তছরুপের সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ।