স্বাস্থ্য শহর

ব্লাড ব্যাংক সরেই গেলো, ক্ষোভে আন্দোলন চরমে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দেখতে বিশেষ প্রতিনিধি দল

বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল বাঁচাও নাগরিক মঞ্চ’। শনিবার শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে দলমত নির্বিশেষে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঞ্চের দাবি, সদর হাসপাতালকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ব্লাড ব্যাংক সরেই গেলো, ক্ষোভে আন্দোলন চরমে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দেখতে বিশেষ প্রতিনিধি দল

 

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া :

পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল থেকে ব্লাড ব্যাঙ্ক সরেই গেলো। ক্ষোভের আঁচ এ বার ছড়ালো রাস্তায়। শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সদর ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ছ’কিলোমিটার দূরে হাতোয়াড়ায় পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মূল ক্যাম্পাসে সরেছে ব্লাড ব্যাঙ্ক। কিন্তু সদর ক্যাম্পাসে এখনও জরুরি, প্রসূতি এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা চালু থাকায় রক্তের প্রয়োজনে রোগী ও পরিজনদের ছুটতে হচ্ছে হাতোয়াড়ায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা এবং তাদের পরিবার।

শুক্রবার এই অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালের এমএসভিপি ড. সুকমল বিষয়ীর কাছে স্মারকলিপি দেন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের পরিজন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, সদর ক্যাম্পাসে ফের ব্লাড ব্যাঙ্ক অথবা অন্তত ব্লাড স্টোরেজ সেন্টার চালু করতে হবে। তা সম্ভব না হলে থ্যালাসেমিয়া ইউনিট-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে করতে হবে স্থানান্তর । দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের কথা মাথায় রেখে রক্ত সঞ্চালনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি সদর থেকে হাতোয়াড়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটে কম ভাড়ায় বিশেষ টোটো পরিষেবার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

এ দিন এমএসভিপির দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। পরে আইসি শিবনাথ পাল, সমাজকর্মী দেবরাজ মাহাতো, পার্থ চট্টরাজ, দীপক মাহাতো-সহ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমএসভিপির সঙ্গে বৈঠক হয়। দ্রুত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস মিলেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

এর মধ্যেই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল বাঁচাও নাগরিক মঞ্চ’। শনিবার শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে দলমত নির্বিশেষে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঞ্চের দাবি, সদর হাসপাতালকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত সদর ক্যাম্পাসেও আগের মতো চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখতে হবে। এই দাবিতে শনিবার স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছেও যাওয়ার কথা মঞ্চের।

আর তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই ক্ষোভের আবহে পুরুলিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থার হালহকিকত দেখতে জেলায় এসেছে রাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি দল। শুক্রবার জেলায় পৌঁছানো দলটি  রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শন করে। রাতে তাঁরা বিশ্রাম নেবেন অযোধ্যা পাহাড়ে। শনিবার বাঘমুন্ডি, বলরামপুর, বরাবাজার-সহ একাধিক ব্লকের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও পরিদর্শনের কথা রয়েছে। রবিবার মানবাজারে যাবে দলটি। প্রতিনিধি দলের সফর ঘিরে স্বাস্থ্য দফতরের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ। গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধেরও ঘাটতি দেখা গেছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের সঙ্গে খাটিয়া নিয়ে আসতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর না থাকায় দুর্ভোগ—এমন নানা অভিযোগকে সামনে রেখে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি।  এবার বিজেপির আমলে ব্লাড ব্যাঙ্কের স্থানান্তর এবং সদর হাসপাতালকে ঘিরে নতুন আন্দোলন। তার উপর একই সময়ে রাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন—সব মিলিয়ে পুরুলিয়ার স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো নিয়ে শনিবার নজর থাকবে সদর হাসপাতালেই।