সাধারণ খবর শহর

পুরুলিয়ায় জনশুনানিতে মারাত্মক সব অভিযোগ প্রশাসনের কাছে

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচির জনশুনানিতে এই মারাত্মক অভিযোগ উঠতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুরুলিয়ায় জনশুনানিতে মারাত্মক সব অভিযোগ প্রশাসনের কাছে

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:


সরকারি প্রকল্পের প্রাপ্য বকেয়া টাকা হাতে পাননি ঠিকাদার। উল্টে প্রশাসনের সরকারি নথিতে দেখা যাচ্ছে, সেই টাকা নাকি অনেক আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে! তা হলে ঠিকাদারের হকের টাকা গেল কোথায়? মাঝপথে কি তবে হাপিশ হয়েছে?
বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচির জনশুনানিতে এই মারাত্মক অভিযোগ উঠতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগকারী ঠিকাদার স্বপনকুমার দাঁ সরাসরি জেলাশাসকের মুখোমুখি হয়ে তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন।

রাজ্য জুড়ে শুরু হওয়া ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি দফতরগুলিতে এই জনশুনানি চলছে। সাধারণ মানুষ সরাসরি আধিকারিকদের সামনে তাঁদের সমস্যা বা অভিযোগ জানাতে পারছেন এবং তা পোর্টালে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। জনশুনানিতে উপস্থিত থাকতে আবেদনপত্রে নাম, ঠিকানা এবং ভোটার ও আধার সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বকেয়া সমস্যা শোনেন স্বয়ং জেলাশাসক সুধীর কোন্থম। সাথে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) উৎকর্ষ সিং, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি প্রকল্প দফতরের আধিকারিক সঞ্জয় বিশ্বাস এবং জেলা নির্বাচন দফতরের অফিসার ইনচার্জ আবুল আলা মামুদ আনসার সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্তারা। জেলা প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বিডিও অফিস, মহকুমাশাসকের দফতর এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও এই শুনানির আয়োজন করা হয়। পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ নিজ কার্যালয়ে বসে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা শোনেন।

এ দিনের কর্মসূচিতে জমি দখল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক সুরক্ষার নানা বকেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসে।

ঠিকাদার স্বপনকুমার দাঁ বলেন,
"আমি ৯ বছর আগে সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছি। আজ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া টাকা পাইনি। অথচ সরকারি কাগজ বলছে টাকা অনেক আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার কষ্টের টাকা মাঝপথে কোথায় গায়েব হলো? আমি বিচার চাই।"

পুরুলিয়ার বাসিন্দ বিভাস ভৌমিক বলেন, "আমার স্ত্রী মারণরোগ ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসার সুবিধার জন্য আয়ুষ্মান প্রকল্পে অনুমোদন মিললেও এখনও হাতে কার্ড পাইনি। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।"

পুরুলিয়ার বাসিন্দা অমরেন্দ্র সাহা  জানান, "ভূমি মাফিয়াদের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি বেআইনি ভাবে মাফিয়ারা দখল করে নিয়েছে। প্রশাসনের কাছে সুবিচারের আশায় এসেছি।"

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে,
জনশুনানিতে আসা সব ক’টি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান একদিনে সম্ভব না হলেও, যেসব বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়নি সেগুলির বিষয়ে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সরকারি কাজের প্রশাসনিক গতি লক্ষ্য করে এ দিন অনেক অভিযোগকারীকেই আশ্বস্ত হয়ে হাসি মুখে দফতর ছাড়তে দেখা যায়।