নিজস্ব প্রতিনিধি,আদ্রা:
সকাল তখন প্রায় ৭টা। আচমকাই মাঝপথে থেমে গেল আদ্রা স্টেশনের লিফট। ভেতরে এক শিশু সহ একাধিক মহিলা যাত্রী। দরজা খোলার কোনো উপায় নেই। সময় যত গড়াতে থাকে ততই বাড়তে থাকে আতঙ্ক। মিনিটের পর মিনিট পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা লিফটের ভিতরেই আটকে থাকতে হলো তাদের। বাইরে বেরিয়ে কয়েকজন মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রবিবার আদ্রা স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের লিফট পরিষেবা ঘিরে এমনই চাঞ্চল্য ছড়ালো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আচমকাই মাঝপথে আটকে যায় লিফটটি। ভেতরে থাকা যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ বেরোতে না পারায় খবর দেওয়া হয় রেল প্রশাসনকে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেল আধিকারিক এবং আদ্রা আরপিএফ-এর জওয়ানরা। শুরু হয় আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারের তৎপরতা।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। লিফটের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছে জল ও বিস্কুট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে আরপিএফ এবং রেল প্রশাসন। এদিকে রেলের ইঞ্জিনিয়ার এবং আরপিএফ জওয়ানরা লিফট সচল করে দরজা খোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে লিফটের দরজা খোলা সম্ভব হয়। নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসেন ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীরা। তবে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ লিফটের ভেতরে থাকার ধকল সামলাতে না পেরে বাইরে বেরিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন মহিলা।
রঘুনাথপুরের বাসিন্দা, উদ্ধার হওয়া যাত্রী ঝর্ণা দাস ক্ষোভ ও আতঙ্কের সুরে জানান, "হাঁটুর ব্যথার জন্য সিঁড়ি ডিঙোতে না পেরে লিফটে উঠেছিলাম। কিন্তু সকাল ৭টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত এই সংকীর্ণ জায়গায় আটকে থাকতে হবে ভাবিনি। ভয়ে শরীর এখনো কাঁপছে, ভেতর থেকে হাঁসফাঁস লাগছিল। রেলের তরফে আমাদের ঠান্ডা জল পৌঁছানো হয়। তারপর একটু স্বস্তি পাই। বাঁকুড়া যাওয়ার টিকিট কাটা থাকলেও আপাতত মেয়ে এসে আমাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের লিফট হয় সংস্কার করা হোক, না হলে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।"
ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ আদ্রা স্টেশনে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে রেলের লিফট পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নিয়ে। যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বিষয় কীভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা বিকল হয়ে রইল? জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রী উদ্ধারের জন্য আরো দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা কি থাকা উচিত ছিল না? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে আদ্রা স্টেশন চত্বরে।