পর্যটন শহর

স্ত্রী হাসপাতালে, খোঁজ মিললো না নেপালে ঘুরতে যাওয়া পুরুলিয়ার প্রাক্তন ডিভিসি কর্মীর

বর্তমানে অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্রুত সন্ধান পাওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির দিকেই আশায় বুক বেঁধে তাকিয়ে রয়েছে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার ও গোটা কুকস কম্পাউন্ড এলাকা।
স্ত্রী হাসপাতালে, খোঁজ মিললো না নেপালে ঘুরতে যাওয়া পুরুলিয়ার প্রাক্তন ডিভিসি কর্মীর

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

কেটে গেল প্রায় ৭২ ঘন্টা। এখনও খোঁজ মিললো না নেপালে ঘুরতে যাওয়া পুরুলিয়ার প্রাক্তন ডিভিসি কর্মীর।

পাহাড়ের টানে নেপাল পাড়ি দিয়েছিলেন পুরুলিয়া শহরের কুকস কম্পাউন্ডের বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আনন্দের ভ্রমণ যে হঠাৎ বিভীষিকায় পরিণত হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান এই বাঙালি দম্পতি। তাঁদের মোবাইল ফোনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায়ের খোঁজ মিলেছে। তিনি বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৌসুমীদেবীর সন্ধান মেলায় কিছুটা চিন্তামুক্ত হলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ তাঁর স্বামী অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় এখনও নিখোঁজ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ তারিখ দুর্গাপুর থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ভ্রমণপিপাসু এই দম্পতি। কিন্তু বিপর্যয় নেমে আসার পর থেকেই তাঁদের আর কোনো খোঁজ মিলছিল না। বেঙ্গালুরুতে কর্মরত তাঁদের একমাত্র কন্যা ক্রমাগত যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও কোনো সাড়া পাননি। কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসেও পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়।

অরিন্দমবাবুর কাকিমা ভারতী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "ওদের ঘুরতে যাওয়ার খুব শখ। ২১ তারিখে রওনা হয়েছিল। বিপর্যয় ঘটার পর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়ায় আমরা ভীষণ আতঙ্কে ছিলাম। পুলিশ এসে মৌসুমীর খবর দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেলাম, কিন্তু অরিন্দম যতক্ষণ না সুস্থভাবে ফিরছে, ততক্ষণ দুশ্চিন্তা কমছে না।"

প্রতিবেশী অমৃতা ভট্টাচার্য বলেন, "কুকস কম্পাউন্ড এলাকায় খবরটি শোনার পর থেকেই সবার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। মৌসুমীদির খোঁজ পাওয়া গেছে শুনে ভালো লাগছে। কাঠমান্ডুর দূতাবাসে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। আশা করছি অরিন্দমদাকেও দ্রুত সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যাবে।"

অরিন্দম বাবুর ভাগ্নি দীপিকা বন্দ্যোপাধ্যায়  বলেন, "মামিমা যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, সেই খবর পাওয়ার পর আমরা খানিকটা আশার আলো দেখছি। তবে মামার কোনো খোঁজ না মেলায় আমাদের উদ্বেগ এখনো চরম পর্যায়ে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, মামাকে দ্রুত খুঁজে বের করার বন্দোবস্ত করা হোক।"

বর্তমানে অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্রুত সন্ধান পাওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির দিকেই আশায় বুক বেঁধে তাকিয়ে রয়েছে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার ও গোটা কুকস কম্পাউন্ড এলাকা।