অন্যান্য

ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস পুরুলিয়া, হিট স্ট্রোকের সতর্কতা চিকিৎসকদের

শনিবার সকাল থেকেই কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জেলায়। ২৩ মে পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭.৫ ডিগ্রি। বৃষ্টিপাত হয়নি।
ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস পুরুলিয়া, হিট স্ট্রোকের সতর্কতা চিকিৎসকদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

কালবৈশাখীর সাময়িক স্বস্তি মিলিয়ে যেতেই ফের চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়া পুরুলিয়ায়। বাতাসে অত্যধিক জলীয় বাষ্পের কারণে শনিবার সকাল থেকেই কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জেলায়। ২৩ মে পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭.৫ ডিগ্রি। বৃষ্টিপাত হয়নি।

দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির নীচে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি। সকাল থেকেই রোদের তেজ বাড়তে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের।

দুপুরের দিকে শহরের রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা দেখা যায়। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বেরোতে চাইছেন না অনেকেই। সকাল সকাল বাজার, ব্যাঙ্ক কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজ সেরে ফেলছেন মানুষ। অন্যদিকে ঠান্ডা পানীয়, ডাবের জল ও শরবতের দোকানগুলিতে ক্রমশ ভিড় বাড়ছে।

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই ধরনের আবহাওয়ায় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সুকমল বিষয়ী বলেন, “অতিরিক্ত তাপমাত্রায় যদি কোনও মানুষের দীর্ঘ সময় এক্সপোজার হয়, তাহলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া, হিট হাইপারপাইরেক্সিয়া বা হিট সিনকোপের মতো মারাত্মক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অকারণে বাইরে না বেরোনোর চেষ্টা করা উচিত। যাঁদের বাইরে কাজ করতেই হয়, তাঁদের সকাল বা বিকেলের দিকে কাজ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। খালি পেটে বাইরে না বেরোনো, ঘন ঘন জল খাওয়া এবং মাথা ঢেকে রাখার কথাও বলেছেন চিকিৎসক।

ডাঃ বিষয়ীর কথায়, “রোদের এই তাপ খুবই মারাত্মক। খালি গায়ে থাকা উচিত নয়। শরীর ঢেকে রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসা প্রয়োজন।” তিনি জানান, পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হিট স্ট্রোক আক্রান্তদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত দু’টি ওয়ার্ডও রয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে ক্রমাগত জলীয় বাষ্প ঢোকার কারণেই এই ভ্যাপসা গরম। আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, তার আগে পর্যন্ত গরম ও আর্দ্রতার যুগল দাপট থেকে খুব একটা রেহাই মিলবে না বলেই আশঙ্কা।