নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
২৯ জুন সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত পুরুলিয়ার উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ২৭.০ ডিগ্রি। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। ফলে দিনভর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল জেলাবাসী।
এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতর পুরুলিয়া-সহ দুই বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের জন্য ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করেছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে রয়েছে হলুদ সতর্কতা। আজ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
অনেকেরই প্রশ্ন, এ বছর বজ্রপাত এত বেশি হচ্ছে কেন? আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে। এর জেরে আরও শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে।
পাশাপাশি, পরিবেশ দূষণও বড় ভূমিকা রাখছে। যানবাহন, শিল্পাঞ্চল এবং নির্মাণকাজ থেকে নির্গত ধূলিকণা ও অ্যারোসল মেঘের মধ্যে চার্জ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে স্থানীয় তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। গরম ও ঠান্ডা বায়ুর সংঘর্ষে দ্রুত বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আগে ও শুরুর দিকে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে প্রচুর জলীয় বাষ্প জমে থাকে। উষ্ণ বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিশলে জলকণার পারস্পরিক সংঘর্ষে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়। সেই চার্জের নির্গমনই বজ্রপাতের রূপ নেয়।
আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ, বজ্রপাতের সতর্কতা জারি থাকলে খোলা মাঠ, জলাশয়, গাছের নিচে বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করে নিরাপদ পাকা ভবনে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।