অন্যান্য

দাবদাহের চূড়ায় পুরুলিয়া, ‘রিয়েল ফিল’ ছুঁলো ৫০ ডিগ্রি

কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৮ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৭.৭ ডিগ্রি। ২৫ মে আরও চড়েছে পারদ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সর্বনিম্ন ২৫.৯ ডিগ্রি। দু’দিনই বৃষ্টিপাত হয়নি।
দাবদাহের চূড়ায় পুরুলিয়া, ‘রিয়েল ফিল’ ছুঁলো ৫০ ডিগ্রি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

মে মাসের শেষ সপ্তাহে কার্যত আগুন ঝরছে পুরুলিয়ায়। দিনের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রির ঘর ছুঁলেও, জেলাবাসীর আসল দুর্ভোগ এখন ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রায়। বিভিন্ন আবহাওয়া পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মে পুরুলিয়ার অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।

কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৮ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৭.৭ ডিগ্রি। ২৫ মে আরও চড়েছে পারদ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সর্বনিম্ন ২৫.৯ ডিগ্রি। দু’দিনই বৃষ্টিপাত হয়নি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসে অত্যধিক জলীয় বাষ্পই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। ‘হিট ইনডেক্স’ বা ‘রিয়েল ফিল’ হিসাব করা হয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যৌথ প্রভাবে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীরের ঘাম সহজে শুকোয় না, ফলে শরীর নিজেকে ঠান্ডা করতে পারে না। আর সেই কারণেই ৪১ ডিগ্রির তাপমাত্রাও শরীরে প্রায় ৫০ ডিগ্রির মতো অনুভূত হচ্ছে।

সকাল থেকেই রোদের তেজ ও ভ্যাপসা গরমে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হচ্ছে জেলায়। দুপুর গড়াতেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। ঠান্ডা পানীয়, ডাবের জল ও শরবতের দোকানগুলিতে বাড়ছে ভিড়।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এই ধরনের আবহাওয়ায় হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শরীর থেকে নুন বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং যাঁরা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করছেন, তাঁদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিম্নচাপের বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা দেখা দিলেও, তার আগে পর্যন্ত পুরুলিয়ায় দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের এই যুগল আক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে।