নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় অপসারিত। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে একসঙ্গে অংশ নিলেন তৃণমূল ও বিজেপির সদস্যেরা। বৃহস্পতিবার অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন মোট ৩২ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের ২৯ জন এবং বিজেপির তিন জন সদস্য।
৪৫ আসনের পুরুলিয়া জেলা পরিষদে বর্তমানে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ৪১। বিজেপির সদস্য রয়েছেন তিন জন। একটি আসন তৃণমূলের এক সদস্যের মৃত্যুর কারণে ফাঁকা আছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে বলে তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ। সেই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উন্নয়নের কাজে গতি আনতে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। ১৭ জুলাই তৃণমূলের ২৪ জন সদস্য যৌথভাবে সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পৃথক অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। প্রশাসনের কাছে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির আবেদনও করা হয়। সেই আবেদনের ১৯ দিন পর জেলা প্রশাসন প্রথমে সভাধিপতির বিরুদ্ধে এবং পরের দিন সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের দিন ঘোষণা করে।
তবে সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সমীকরণ। বুধবার সভাধিপতির বিরুদ্ধে ডাকা অনাস্থা ভোটে কোনও সদস্য উপস্থিত হননি। ফলে কার্যত অনাস্থা প্রস্তাবটি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে উপস্থিত হন ৩২ জন সদস্য। উপস্থিত সকলেই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ফলে অপসারিত হন সুজয়।
তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যা সুমিতা সিংহ মল্ল বলেন," গোটা বিষয়টিই দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এলাকার সার্বিক উন্নয়নই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। জেলা পরিষদের থমকে থাকা কাজগুলোকে পুনরায় সচল করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। পুরুলিয়ার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল।"
বিজেপি জেলা পরিষদ সদস্য রাকেশ মাহাতো বলেন,"রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, কিন্তু জেলা পরিষদের উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক জটিলতার কারণে যাতে জেলার সার্বিক ক্ষতি না হয়, সেই কারণেই আমরা উন্নয়নমূলক কাজের গতি ফেরাতে এই অনাস্থা প্রস্তাবে অংশ নিয়ে ভোট দিয়েছি।"
প্রশ্ন উঠছে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলো সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতি উভয়ের বিরুদ্ধে, অথচ এক যাত্রায় হলো পৃথক ফল। কেন সুজয়ের প্রতি এই উষ্মা?