ক্রাইম ব্লক

যাঁর নজর এড়িয়ে পালাতে পারেনি খুনি প্রেমিক, পুলিশ সুপার পুরস্কৃত করলেন সেই ভিলেজ পুলিশকে

রাতের অন্ধকারে বাইকের পেছনে বস্তায় পুরে প্রেমিকার মৃতদেহ পাচারের ছক ভেস্তে গেল এক ভিলেজ পুলিশ কর্মীর তৎপরতায়। বলরামপুরের এই অসামান্য কাজের জন্য তাঁকে বিশেষ প্রশাসনিক প্রশংসা জানালো পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।
যাঁর নজর এড়িয়ে পালাতে পারেনি খুনি প্রেমিক, পুলিশ সুপার পুরস্কৃত করলেন সেই ভিলেজ পুলিশকে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

 

রাতের অন্ধকারে বাইকের পেছনে বস্তায় পুরে প্রেমিকার মৃতদেহ পাচারের ছক ভেস্তে গেল এক ভিলেজ পুলিশ কর্মীর তৎপরতায়। ডিউটিতে থাকাকালীন উপস্থিত বুদ্ধি ও সতর্কতার পরিচয় দিয়ে একাই পর্দাফাঁস করলেন হত্যা রহস্যের।শুধু তাই নয়, উদ্ধার করলেন মৃতদেহ এবং হাতেনাতে পাকড়াও করালেন অভিযুক্তকে। তাঁর এই অসামান্য কাজের জন্য তাঁকে বিশেষ প্রশাসনিক প্রশংসা জানালো পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশংসিত ওই ভিলেজ পুলিশ কর্মীর নাম লক্ষ্মীকান্ত কুমার। তিনি বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্বে কর্মরত। শনিবার রাতে ডিউটি করার সময় একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। বাইকটিকে দাঁড় করাতেই তিনি দেখতে পান, আরোহী পেছনের আসনে অদ্ভুতভাবে একটি বস্তা নিয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুহূর্তের মধ্যে বলরামপুর থানায় খবর দেন লক্ষ্মীকান্তবাবু। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের বিষয়টি জানান তিনি। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার  বলরামপুর থানায়  ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ ওই ভিলেজ পুলিশ কর্মীর তৎপর পদক্ষেপ, কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীকান্তের এই সচেতনতা সমগ্র পুলিশ বাহিনীর কাছে একটি উজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল দৃষ্টান্ত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নৃশংস এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অমিত কুমার মাহাতো নামে এক যুবককে  গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অমিতের সঙ্গে ওই তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা একই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতো। সম্প্রতি তরুণী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে— অমিতের মনে এমন সন্দেহ তৈরি হওয়ায় দু'জনের মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। প্রাথমিক অনুমান, অমিতের টামনার মেসে ওই তরুণী আসে শনিবার। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর গলায় আঘাত করে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে দেহ বস্তায় ভরে বাইকে তুলে অন্য কোথাও ফেলে আসার পরিকল্পনা ছিল অমিতের।