সাধারণ খবর শহর

দ্য সায়েন্স রুফের সমাবর্তনে চাঁদের হাট শহরের গাড়িখানায়

পুরুলিয়ার মত সীমান্ত জেলায় শিক্ষা ও নার্সিংয়ের ক্ষেত্রে 'দ্য সায়েন্স রুফ-এর এই উদ্যোগ নারী শক্তির এমন এক নতুন জোয়ার এনে দিয়েছে, যা আগামী দিনে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক গড়ে তুলবে, এমনটাই মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল ।
দ্য সায়েন্স রুফের সমাবর্তনে চাঁদের হাট শহরের গাড়িখানায়

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

পরিকাঠামো ও সঠিক গাইডলাইনের অভাবে দীর্ঘকাল মানুষের কাছে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে গণ্য হওয়া পুরুলিয়া জেলার তরুণ প্রজন্ম আজ নিজেদের যোগ্যতায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে। সারা বাংলায় ছড়িয়েছে পুরুলিয়ার গৌরব এবং সুখ্যাতি। বিশেষ করে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যশিক্ষার ক্ষেত্রে জেলা জুড়ে এক নতুন বিপ্লব এনে দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্য সায়েন্স রুফ ।পুরুলিয়ার গাড়িখানায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক বিশেষ সমাবর্তন সমারোহ এবং শিক্ষক দিবস অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিশেষ  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
স্বামী নির্বানানন্দ মহারাজ, দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডাঃ দেবদ্বীপ মুখোপাধ্যায়  সহ অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা পুরুলিয়ার সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সমাজ গঠনে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

এ বছরের নার্সিং প্রবেশিকা পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০-রও বেশি ছাত্রী জিএনএম, এএনএম এবং বিএসসি নার্সিং -এ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই অভাবনীয় সাফল্যকে উদ্‌যাপন করতেই যৌথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।


স্বামী নির্বানানন্দ মহারাজ বলেন, "আজ আমরা সবাই একত্র হয়েছি এই ছাদের তলে। এই সংগঠন 
যেভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের সাহায্য করে চলেছে, তা যেন বিজ্ঞানের এক বাস্তব রূপ ,আর জীবনের যত কঠিন পরাজয় বা শরশয্যাই আসুক না কেন,
মানুষকে ঘুরে দাঁড় করানোর এই নিরন্তর প্রচেষ্টা তারা চালিয়ে যায় যাতে ইতিহাসে একটি চিরস্থায়ী দাগ কাটা থাকে। বিজ্ঞানের এই রূপটি প্রতিষ্ঠা পেয়ে আমাদের পুরুলিয়া শহরকে এক অনবদ্য অবদান উপহার দিয়েছে।"


শিক্ষক নীলোৎপল সিনহা বলেন, "পুরুলিয়ার ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। কেবল সঠিক পরিকাঠামো ও গাইডলাইনের দরকার ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে 'দ্য সায়েন্স রুফ' দক্ষতার সঙ্গে যোগান দিয়ে আসছে"। একই সঙ্গে সমাজের প্রতি যুবসমাজের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, চাকরিতে সফল হয়ে চেয়ারে বসার পর সেই ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, বরং সামনের মানুষটিকে সহানুভূতি ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে সেবা করাই আসল দায়িত্ব।

দি সায়েন্স রুফ ইনস্টিটিউটের কর্ণধার  নীলোৎপল মন্ডল বলেন, "২০২৩ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত 'নারী ক্ষমতায়ন'কে মূল লক্ষ্য রেখে। একজন শিক্ষিত মা একটি পরিবার ও আগামী প্রজন্মকে বদলে দিতে পারে। আজ আমাদের এখান থেকে দেড় শতাধিক ছাত্রী সফল হয়ে নার্সিং ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল কলেজে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা মানবসেবায় নিয়োজিত থাকবে।"

সহযোগী কর্ণধার উত্তম মাহাত বলেন, "শিক্ষক নীলোৎপল স্যারের নির্দেশনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে "।

বিএসসি নার্সিং ছাত্রী পূজা নন্দী বলেন,
" এই ইনস্টিটিউটে  চমৎকার টিচিং ফ্যাকাল্টি, প্রতিনিয়ত মক টেস্ট এবং উপযুক্ত গাইডেন্সের কারণেই আজ আমি নার্সিং-এ এই স্থান পেয়েছি। নার্স হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করতেই আমি প্রস্তুত"।

পুরুলিয়ার মত সীমান্ত জেলায় শিক্ষা ও নার্সিংয়ের ক্ষেত্রে 'দ্য সায়েন্স রুফ-এর এই উদ্যোগ নারী শক্তির এমন এক নতুন জোয়ার এনে দিয়েছে, যা আগামী দিনে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক গড়ে তুলবে, এমনটাই মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল ।