নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা টেট সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) অবিলম্বে প্রদান এবং স্থানীয় শিক্ষা ও পেশাগত নানা জটিলতা নিরসনের দাবিতে সরব হলো শিক্ষক সমাজ। গত বৃহস্পতিবার এবিটিএ ও এবিপিটির পুরুলিয়া জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে পুরুলিয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এর কার্যালয়ে এক অনশন, অবস্থান ও ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই প্রতিবাদসূচিতে যোগ দেন প্রায় ৩০০-র বেশি শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী। কেবল প্রথাগত স্লোগান বা বক্তব্য নয়, আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলেন নানা সাংস্কৃতিক মাধ্যমে কথা, কবিতা, প্রতিবাদী গান এবং শ্রুতিনাট্যের রূপরেখায়।
কর্মসূচিতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন এবিটিএ-র পুরুলিয়া জেলা সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী এবং এবিপিটিএ-র পুরুলিয়া জেলা সভাপতি জিতেন ওঝা। অনশন আন্দোলন চলাকালীন উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মী নেতৃত্বের হাত ধরে ডিআই -এর কাছে তাদের মূল দাবি সনদ সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবিটিএ-র কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা সম্পাদক ব্যোমকেশ দাস এবং এবিপিটিএ-র জেলা সম্পাদক দীপক মণ্ডল অভিযোগ করেন, সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই টেট সমস্যার সমাধান আটকে রয়েছে। পাশাপাশি অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া ডিএ মেটানো এবং বিভিন্ন স্কুলে খালি থাকা পদে দ্রুত নতুন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জোর দাবি জানান তারা। সরকারি নানা নীতি কীভাবে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা তুলে ধরে সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দেন অন্যান্য বক্তারাও।
এদিনের সমাবেশে বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষক নেতা নিলয় মুখোপাধ্যায়, অনিল মাহাতো, মহসিন খান, প্রণব নিয়োগী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ১২ই জুলাই কমিটির সুজয় সরকার ও সৃষ্টিধর দাস। অন্যদিকে প্রতিবাদী গান, কবিতা ও শ্রুতিনাট্যে অংশ নেন সুলেখা বাউরী, চিরশ্রী গোস্বামী, অনিন্দিতা বাউরী, ভাস্কর চৌধুরী, শেক সাবির আলি, বিনয় কৃষ্ণ পাল, অভিষেক মুখোপাধ্যায় , মধুসূদন পতি ও অচিন্ত্য পাঠক।
নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা ও শিক্ষকদের ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক সমন্বয়ে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।