রাজনীতি শহর

পুরুলিয়ায় বিশাল মিছিল, তৃণমূলের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছাত্র-যুবদের কল্যাণে ফের উঠছে বামেরা

মিছিলের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জেলায় শিল্প স্থাপন, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ, শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য বন্ধ এবং বালির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনা। শহরের প্রধান প্রধান রাজপথ পরিক্রমা করে মিছিলটি জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে শেষ হয়।
পুরুলিয়ায় বিশাল মিছিল, তৃণমূলের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছাত্র-যুবদের কল্যাণে ফের উঠছে বামেরা

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

রাজ্যের বিধানসভায় বিরোধী কারা, কালীঘাট তৃণমূল, না ঋতব্রত তৃণমূল? এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝেই ছাত্র-যুবদের কল্যাণে ফের নজরে পড়ছে বামেরা। পুরুলিয়ার শিল্পহীনতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষা ও নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়ার প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাম গণতান্ত্রিক ছাত্র-যুব সংগঠনসমূহ। শাসকদলের একের পর এক নীতি ব্যর্থ, এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার পুরুলিয়া শহরে এক প্রতিবাদ মিছিল বের করে তারা। মিছিল শেষে ১৭ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে।

মিছিলের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জেলায় শিল্প স্থাপন, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ, শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য বন্ধ এবং বালির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনা। শহরের প্রধান প্রধান রাজপথ পরিক্রমা করে মিছিলটি জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে শেষ হয়।

অভিযানে শামিল হয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক দলের যুব সংগঠন যুবলীগ নেতা চন্দন চট্টোপাধ্যায় সরকারের ওপর তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, "সরকার সস্তা গ্যাস, উন্নত শিক্ষা ও কাজের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভুলে গেছে। ধর্মীয় বিভাজন ও শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথ ছেড়ে পুরুলিয়াতেই ভারী শিল্প ও স্থানীয় কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি জেলাতেই পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন এবং সময়মতো ট্রেন চলাচল সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"

আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট করে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই নেতা সুব্রত মাহাতো বলেন, "বেকারদের স্থায়ী কাজ, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল ও আদিবাসী হোস্টেল পুনরায় চালু করা এবং অবিলম্বে কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন করাতে হবে। আমাদের এই ১৭ দফা দাবিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মহিলাদের সমান অধিকার ও সুরক্ষা, যোগ্যদের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর বকেয়া প্রদান এবং ব্লাড ব্যাঙ্ক স্থানান্তর বন্ধের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের অধিকার না মিললে আগামীতে রাজ্যজুড়ে আরও তীব্র আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।"