ক্রাইম শহর

পুরুলিয়ায় ৫ বছর পর বিজেপি নেতার ওপর হামলা মামলায় ধৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মী, গ্রেফতার আরও ২

পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ গোপন অভিযানে চালিয়ে সঞ্জয়সহ মোট তিন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃত অন্য দুজন হলেন অভিষেক পাল ও শেখ হাকিক। সোমবার তিনজনকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
পুরুলিয়ায় ৫ বছর পর বিজেপি নেতার ওপর হামলা মামলায় ধৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মী, গ্রেফতার আরও ২

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতাকে প্রাণঘাতী হামলার পুরনো মামলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রভাবশালী নেতা তথা সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী সঞ্জয় মণ্ডল। রবিবার রাতে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ গোপন অভিযানে চালিয়ে সঞ্জয়সহ মোট তিন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃত অন্য দুজন হলেন অভিষেক পাল ও শেখ হাকিক। সোমবার তিনজনকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর। অভিযোগ, পুরুলিয়া শহরের জেলা শিক্ষা ভবনের মোড়ে রাতে একা পেয়ে জেলা বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করে একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের মূল তির ছিল সঞ্জয় মণ্ডল ও তাঁর অনুগামী তৃণমূল কর্মীদের দিকে। হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল ওই বিজেপি নেতাকে।
অভিযোগকারীর দাবি, সেই সময়ে একাধিকবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁর কোনও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেনি। অবশেষে রবিবারে ১২ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে পুরুলিয়া সদর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত বিজেপি নেতা। অভিযোগ পেতেই আর দেরি না করে রবিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  


এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলা বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজ বলেন,
"২০২১ সালের ভোটের পর শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমার ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছিল। গুরুতর আহত হয়ে আমাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে লড়াই করতে হয়। সেই সময়ে বারবার থানার দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কোনও লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত নেয়নি, প্রশাসন ছিল সম্পূর্ণ নীরব। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ অবশেষে অপরাধীদের গ্রেফতার হতে দেখলাম। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। এই হামলায় যুক্ত বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"

ভোট-পরবর্তী হিংসার এই পুরনো মামলায় শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারিতে নতুন করে জেলা রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে, সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষাকর্মী সঞ্জয় মণ্ডলের গ্রেফতারির পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব পুলিশের আতশকাচের তলায় রয়েছেন কি না, তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।